‘এগরোল খেতে-খেতে মণ্ডপে ঢুকে পড়ছে…’, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বার্তা স্পষ্ট করলেন নির্গুণানন্দ

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা খারিজ করলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী; মণ্ডপে পরিচ্ছন্নতার উপরই জোর তাঁর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের মাঝেই অবস্থান স্পষ্ট করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। পুজোর মণ্ডপে আমিষ খাবার খাওয়ার উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আপত্তি মূলত প্রতিমার সামনে পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা বজায় রাখা নিয়ে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বার্তা ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সংগঠনের মার্গদর্শক নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য, দুর্গাপ্রতিমার নিজস্ব রূপ ও ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি মণ্ডপের ভিতর পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নির্গুণানন্দের দাবি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কখনও আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করার কথা বলেনি। বরং তাঁর বক্তব্যকে ঘুরিয়ে এমন প্রচার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, কোনও মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে সেই স্থানকে দেবালয় হিসেবেই দেখা হয়।

সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “এগরোল খেতে খেতে ঠাকুর দেখতে মণ্ডপে ঢুকে পড়ছে”—এমন দৃশ্য কাম্য নয়। তাঁর বক্তব্য, মণ্ডপের যে অংশে দুর্গাপ্রতিমা রয়েছে, সেখানে খাবার খাওয়ার বদলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সকলের সচেতন থাকা উচিত।

শুধু খাবার নয়, দুর্গাপ্রতিমার রূপ নিয়েও নিজেদের আপত্তির জায়গা স্পষ্ট করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। নির্গুণানন্দের বক্তব্য, সৃজনশীলতা ও আধুনিকতার বিরোধী তাঁরা নন। কিন্তু থিমের নামে দুর্গার ঐতিহ্যবাহী রূপ বদলে দেওয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

তাঁর কথায়, দুর্গাকে বিধবার মতো সাজিয়ে দেওয়া কিংবা তাঁর হাতে থাকা ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র সরিয়ে অন্য কিছু তুলে দেওয়ার মতো পরিবর্তন করা উচিত নয়। আধুনিক থিম থাকতেই পারে, কিন্তু দশপ্রহরণধারিণী দুর্গার নিজস্ব রূপ যেন কোনওভাবেই বিকৃত না হয়—এটাই তাঁদের বক্তব্য।

নির্গুণানন্দ আরও বলেন, জুতো দিয়ে তৈরি প্যান্ডেল, থিমের নামে আজান বাজানো কিংবা সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনও উপস্থাপনা নিয়েই তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের অবস্থানকে ভুলভাবে শুধুমাত্র ‘থিম-বিরোধিতা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

ফলে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই বার্তায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলেও সংগঠনের তরফে আমিষ খাবারের উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য—দুর্গাপ্রতিমার সামনে খাবার নয়, মণ্ডপের পরিবেশে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলাই বজায় থাকুক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন