রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকের বক্তব্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ মে বাগুইআটি থানায় প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন সমাজকর্মী রাজীব সরকার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারী রাজীব সরকার দাবি করেছেন, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারত। তাঁর কথায়, “এই ধরনের মন্তব্যের ফলে রাজ্যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের উপর হামলার পরিবেশ তৈরি হতে পারত।”
তবে রাজীব স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সরব। এর আগেও বাগুইআটি এলাকায় বার ও নাচগান সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে নারী পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেন রাজীব। তাঁর বক্তব্য, “সমাজ বদলের লড়াই করতে গেলে নানা ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হতেই হয়।”
এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই এফআইআর প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।









