‘ঝুঁকেগা নহি’ ফের বললেন জাহাঙ্গির! ১০ দিন পর প্রকাশ্যে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী

১০ দিন পর জনসমক্ষে ফিরে দলীয় কার্যালয় খুললেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। পুনর্নির্বাচনের আগে ফের শোনা গেল তাঁর ‘ঝুঁকেগা নহি’ বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে ১০ দিন পর আবার প্রকাশ্যে এলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। বন্ধ হয়ে থাকা দলীয় কার্যালয় খুলে উপনির্বাচনের প্রস্তুতির বার্তা দিলেন তিনি। আর ফিরে এসেই নিজের বহুচর্চিত সংলাপও ফের শোনালেন— “ঝুঁকেগা নহি”। ফলতা উপনির্বাচন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই নজর ছিল নির্বাচন কমিশনের। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় বিশেষ নজরদারির দায়িত্বে আনা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ বলে পরিচিত পুলিশ আধিকারিক অজয়পাল শর্মাকে। সেই সময় থেকেই জাহাঙ্গির খান বনাম অজয়পাল শর্মার ঠান্ডা সংঘাত রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসে। একসময় জাহাঙ্গির মন্তব্য করেছিলেন, “উনি যদি সিংহম হন, আমি পুষ্পা।” সেই মন্তব্য ঘিরে প্রবল বিতর্কও হয়েছিল।

নির্বাচনের পর ফলতায় একাধিক বুথে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। পরে কমিশন গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খুলেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হন জাহাঙ্গির। তাঁর অভিযোগ, মাত্র ৩২টি বুথ নিয়ে অভিযোগ থাকলেও ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “তা হলে হারল কে? আমি?” পাশে ছিলেন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরও।

জাহাঙ্গির দাবি করেন, ভোটের সময় প্রশাসনের তরফে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিশেষ করে অজয়পাল শর্মার ভূমিকাকে নিশানা করেন তিনি। যদিও রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এলাকায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেই কারণেই কিছুদিন নীরব ছিলেন বলে জানান তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর কথায়, “রাজ্যে পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি অশান্ত ছিল। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই কিছুদিন চুপ ছিলাম।”

তবে তিনি এলাকা ছেড়ে কোথাও যাননি বলেও স্পষ্ট করেছেন। বরং পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই ছিলেন বলে দাবি জাহাঙ্গিরের। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আলাদা প্রচারের প্রয়োজন আছে বলেও মনে করছেন না তিনি। নিজেকে ফলতার ‘ভূমিপুত্র’ বলে উল্লেখ করে জাহাঙ্গির বলেন, “ঝড় এলে মাথা একটু নীচু করতে হয়। আমরাও করেছিলাম। আবার মাথা তুলে দাঁড়াব।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফলতার উপনির্বাচন এখন শুধুই একটি কেন্দ্রের ভোট নয়, বরং তা শাসক-বিরোধী সংঘর্ষের বড় প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতেই ফের উঠে এলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত