দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কে ছিলেন তাম্রলিপ্ত পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর চঞ্চল খাঁড়া। অবশেষে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করল তমলুক থানার পুলিশ। ধৃত কাউন্সিলর শুধু পুর প্রতিনিধিই নন, তিনি তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতিও। এতদিন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ চঞ্চল খাঁড়াকে তাঁর বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় দীর্ঘ জেরা। রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার পর তমলুক জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
চঞ্চল খাঁড়া তমলুক পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, ভয় দেখানো-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আগে থেকেই থানায় জমা পড়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু তিনি শাসক দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় এতদিন পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার সকালে তমলুক থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। চঞ্চলের পাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক পার্থসারথি মান্না বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের নেতাদের দৌরাত্ম্যে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। জোর করে জমি দখল থেকে শুরু করে ভয় দেখানো— সবই চলত। আজ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে।”
এদিকে, একই দিনে আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিধাননগর পুরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টুকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এক প্রোমোটারকে মারধরের অভিযোগে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগের মামলাগুলিও নতুন তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরসভা স্তরের দুর্নীতি এবং দাপটের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। একের পর এক কাউন্সিলর গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।



