কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমিত শাহকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণের অভিযোগ তুলে সরব হল বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে শ্রীরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দ্রুত তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শনিবার শ্রীরামপুর থানায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে একাধিক জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে কড়া এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বক্তব্যে অমিত শাহকে ‘গুন্ডা’, ‘জল্লাদ’, ‘কাপুরুষ’ এবং ‘কমপ্লিটলি ডার্টি ম্যান’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বিজেপি নেতা ভাস্কর ঘোষ জানান, দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, এই ধরনের বক্তব্য আইনত দণ্ডনীয় এবং সেই কারণেই সাংসদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, শুধু অমিত শাহ নন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পরিবারকে নিয়েও বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বিষয়টিও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে দেওয়া কিছু বক্তব্য সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে ভূমিকা রেখেছিল। সেই কারণেও সাংসদের বক্তব্যগুলি খতিয়ে দেখার দাবি তোলা হয়েছে।
শ্রীরামপুরের বাসিন্দা ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, এর আগেও একই ধরনের মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন রিষড়া থানাতেও বিজেপির এক কাউন্সিলর একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে বিকেলে শ্রীরামপুরের বটতলা এলাকায় বিজেপি কর্মীরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী।
তবে এই অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগের পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



