নজরবন্দি ব্যুরো: নয়াদিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে সরাসরি জবাবদিহির দাবি তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর প্রশ্ন, পড়ুয়াদের উপর গুলি চালানো এবং লাঠিচার্জের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-এর অনুমোদন ছিল কি না, তা স্পষ্ট করে জানাক সরকার। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র বিরুদ্ধেও পড়ুয়া আন্দোলন ও রাম মন্দির সংক্রান্ত অভিযোগে নীরব থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের সঙ্গে সরকারের সংঘাত নতুন মাত্রা পেল পড়ুয়াদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের দাবিতে। সরকারের তরফে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, তাঁদের মূল প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সেই আলোচনা অর্থহীন।
কংগ্রেস সভাপতি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে (Mallikarjun Kharge)-কে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, শিক্ষা বা অন্য কোনও সাধারণ বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে অমিত শাহের সরাসরি অবস্থান জানতে চাইছে বিরোধীরা।
রাহুলের বক্তব্য, পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর প্রশ্ন, এই পুলিশি পদক্ষেপের অনুমোদন কে দিয়েছিল? অমিত শাহ কি এই পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন, নাকি তাঁর তা জানা ছিল না—সংসদে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুলের যুক্তি, যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়ে থাকেন, তা হলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে। আর যদি তিনি গোটা ঘটনার বিষয়ে অবগত না থাকেন, তা হলে প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এই দুই পরিস্থিতির যেকোনও একটির ক্ষেত্রেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা।
সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল আরও বলেন, সংসদের শুরু থেকেই বিরোধীরা তিনটি বিষয় সামনে রেখে আলোচনা চেয়ে আসছেন। তার মধ্যে অন্যতম পড়ুয়াদের উপর পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত চুরির অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন।
রাম মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলে রাহুল দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জনসমক্ষে ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর প্রায় ১৫ দিন কেটে গেলেও প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষয়গুলিতে সরাসরি জবাব দেননি।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা সেই প্রস্তাব নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। রাহুলের বক্তব্য, মূল প্রশ্নগুলির উত্তর না দিয়ে শুধুমাত্র সাধারণ বিষয়ে আলোচনা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, সরকারের প্রস্তাব অনেকটা ‘গ্যাস ভরা বেলুন’-এর মতো—শেষ পর্যন্ত তা ফেটে যাবে।
পড়ুয়াদের আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এর আগেও সংসদের ভিতরে ও বাইরে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। রাহুলের অভিযোগ, দিল্লিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যে ধরনের বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে, তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্র।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের মূল দাবি এখন একটাই—পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে এসে সরাসরি জবাব দিন। রাহুলের বক্তব্য, সাধারণ কোনও আলোচনা নয়, প্রথমে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের দায় ও সিদ্ধান্তের উৎস স্পষ্ট হওয়া দরকার। সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের সেই সংঘাতই সংসদের পরবর্তী কার্যক্রমে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।



