প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে ঘিরে ফের সক্রিয় হচ্ছে বিরোধী শিবির। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন করে ইমপিচমেন্ট মোশন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে INDIA ব্লকের একাধিক দল। এই আবহেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির যোগাযোগের খবর সামনে এসেছে।
সূত্রের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোট পরিচালনা নিয়ে বিতর্কের আবহে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এম এ বেবির সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে চিঠি চালাচালিও হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও এম এ বেবির কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই যোগাযোগের কথা তৃণমূলের তরফে সাংসদ সৌগত রায়ও স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে মমতা-বেবির কথোপকথনের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসেনি।
বাম বিরোধিতা থেকে জ্ঞানেশ ইস্যুতে কাছাকাছি?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল বামফ্রন্ট, বিশেষ করে সিপিএম। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের পর তৃণমূল ক্ষমতায় আসে।
জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী INDIA জোটের পরিসরে তৃণমূল ও সিপিএম একই বিরোধী শিবিরে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধ রয়েছে। সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এম এ বেবির যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।
তবে এটিকে দুই দলের মধ্যে কোনও নির্বাচনী জোট বা স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখার মতো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও নেই। সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও শনিবার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত ইস্যুতে দলগুলির একসঙ্গে কাজ করা মানেই নির্বাচনী জোট নয়।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ফের ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের নতুন করে অপসারণ প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির খবর সামনে এসেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে INDIA ব্লকের একাধিক দল এই উদ্যোগে একমত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে চলতি বছরও জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে বিরোধীরা একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিল। এপ্রিল মাসে ৭৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর করা একটি নোটিস রাজ্যসভায় দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। সেই নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তবে আগের উদ্যোগগুলি সংসদীয় পর্যায়ে এগোয়নি। নতুন করে যে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি চলছে, তার প্রেক্ষাপট হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং SIR নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ সামনে এসেছে।
‘ভোটচুরি’ ইস্যুতে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের ডাক মমতার
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন। তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলার পাশাপাশি SIR-এর আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ফের নির্বাচন করার দাবিও জানিয়েছেন।
মমতা জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে INDIA ব্লকের নেতারা একসঙ্গে আন্দোলনে নামবেন। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ অন্য নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
কংগ্রেসের নেতৃত্বে নতুন ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের প্রস্তুতির খবরও সেই বৃহত্তর বিরোধী সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। INDIA ব্লকের মধ্যে এই ইস্যুতে সমন্বয় তৈরির কথা একাধিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
দিল্লিতে বৈঠকের সম্ভাবনা
সূত্রের দাবি, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে INDIA ব্লকের বৈঠক হতে পারে। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নতুন করে অপসারণ প্রস্তাব, নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে যৌথ কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট দিন ও সময় নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। ফলে বুধবার বৈঠক হওয়ার যে দাবি উঠেছে, সেটিকে আপাতত সূত্রনির্ভর সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একদিকে সংসদে নতুন ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও SIR নিয়ে বিরোধীদের ধারাবাহিক আন্দোলন—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক তাই ফের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।



