ঠিক কতদিন ধূমপান না খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে?

ধূমপান ছাড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়। তবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে সময় লাগে কয়েক বছর। ৫-১০ এবং ১০-১৫ বছরে কী পরিবর্তন হয় জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ধূমপান যে ক্যানসারের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ে। তবে সুখবর হল, ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীর ধীরে ধীরে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু করে। বয়স যতই হোক বা কত বছর ধরে ধূমপান করা হয়েছে, ধূমপান বন্ধ করার পর শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়।

অনেকেরই প্রশ্ন, ঠিক কতদিন সিগারেট না খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে শুরু করে? এর উত্তর একেবারে নির্দিষ্ট কয়েক দিন বা কয়েক মাসে দেওয়া যায় না। ধূমপান ছাড়ার সুফল ধাপে ধাপে আসে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে।

ধূমপান বন্ধ করার পর থেকেই শরীর নিজেকে সুস্থ করার প্রক্রিয়া শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যেই রক্তে নিকোটিনের মাত্রা কমে যায় এবং কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রাও স্বাভাবিকের দিকে ফিরতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার দিকে এগোয়।

তবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমার প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক ভাবে ধীর। কারণ দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে শরীরের কোষ ও টিস্যুতে যে ক্ষতি জমা হয়, তা একদিনে পুরোপুরি দূর হয় না।

ধূমপান ছাড়ার পর প্রথম কয়েক মাসেও শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। প্রায় ১ থেকে ১২ মাসের মধ্যে অনেকের কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ কমতে শুরু করে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।

ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না, হৃদ্‌যন্ত্রের উপরও এর বড় প্রভাব রয়েছে। সিগারেট ছেড়ে দিলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ধূমপান বন্ধ করার এক থেকে দুই বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমতে শুরু করতে পারে। অর্থাৎ ধূমপান ছাড়ার সুফল কেবল ক্যানসারের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিক হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায়।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময়টা তুলনামূলক ভাবে বেশি। ধূমপান ছাড়ার প্রায় ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে পারে।

ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধূমপান থেকে বিরত থাকার পর ঝুঁকি কমে। ধূমপান চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় ধূমপান ছাড়ার ১০ থেকে ১৫ বছর পর ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ১০ বা ১৫ বছর পর ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি একেবারে শূন্য হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধূমপান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। কতটা ঝুঁকি থাকবে, তা নির্ভর করতে পারে ধূমপানের সময়কাল, দৈনিক সিগারেটের পরিমাণ এবং ব্যক্তির অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত কারণের উপর।

ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও ‘দেরি হয়ে গিয়েছে’ এমন সময় নেই। দীর্ঘদিন ধূমপান করলেও সিগারেট ছেড়ে দিলে শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমতে থাকে।

তাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমার জন্য ১০ বা ১৫ বছর অপেক্ষা করার বিষয়টি নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান বন্ধ করাই গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান ছাড়ার পর শরীর কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং পরবর্তী বছরগুলিতে সেই সুফল ক্রমশ বাড়তে থাকে।

যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ধূমপায়ী হলে ফুসফুসের স্বাস্থ্য এবং ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন