মহারাষ্ট্রে বর্ষার ঘাটতি এবার বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের ৩৫৮টি তহসিল বা প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে সরকার। অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ প্রশাসনিক এলাকা এখন খরার আওতায়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় একাধিক কৃষিপ্রধান এলাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের আগে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন খরাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব তৈরি করার পর কৃষকদের জন্য আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
খরার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে মহারাষ্ট্রের কৃষিনির্ভর কয়েকটি অঞ্চলে। অমরাবতী, সোলাপুর, লাতুর-সহ অন্তত ছয়টি জেলায় বর্ষার মরসুমে বৃষ্টির ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। বিড এবং ধারাশিব এলাকাতেও দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি বলে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।
১ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছত্রপতি সম্ভাজিনগর অঞ্চলে ৪২৪.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ওই সময়ের মধ্যে সেখানে প্রায় ৬১৩.১ মিলিমিটার বৃষ্টির প্রত্যাশা করা হয়। অর্থাৎ বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৩০.৮ শতাংশ।
পুণে এবং নাসিক অঞ্চলেও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। অমরাবতী ও নাগপুর অঞ্চলে ঘাটতি প্রায় ২৭ শতাংশ। তুলনায় কোঙ্কণ অঞ্চলে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো, সেখানে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৬.৩ শতাংশ।
কৃষি কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ২৬৫টি প্রশাসনিক এলাকাকে খরার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি মাপকাঠিতে বর্ষাকালে কোনও এলাকায় টানা ২১ দিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হলে খরার পরিস্থিতি চিহ্নিত করার একটি নির্দিষ্ট সূচক কার্যকর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
খরা ঘোষণা হলেও কৃষকদের হাতে এখনই ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে যাচ্ছে না। প্রথমে মাঠপর্যায়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করা হবে। জেলাশাসকদের সেই কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির ছবি এবং জিপিএস-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
খরাকবলিত ঘোষণার ফলে কৃষকদের জন্য একাধিক প্রশাসনিক সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা। জমির রাজস্ব সংক্রান্ত ছাড়, কৃষিঋণ পুনর্গঠন এবং ঋণ আদায়ে সাময়িক ছাড়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যে এলাকাগুলিতে পানীয় জলের সমস্যা দেখা দেবে, সেখানে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।
গবাদি পশুর জন্য খাদ্য এবং জল সরবরাহের পাশাপাশি জল সংরক্ষণমূলক কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়েও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘদিনের বৃষ্টির ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে খরিফ চাষে। সয়াবিন, তুলো এবং ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে ফলন কমার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে পারে।
মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি তাই এখন শুধু বৃষ্টির ঘাটতির সমস্যা নয়। ২৬৫টি প্রশাসনিক এলাকায় খরা ঘোষণার পর নজর রয়েছে ফসলের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং কৃষকদের জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তার দিকে।



