নজরবন্দি ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) নিয়ে বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) করা মন্তব্য ঘিরে আইনি নোটিস পাঠালেন অভিষেকের আইনজীবী। ১০ আগস্টের ওই নোটিসে ৯ আগস্ট সংবাদমাধ্যমের সামনে করা একটি মন্তব্যকে ‘ভুল ও তথ্যগত ভাবে ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৭ দিনের মধ্যে মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে স্পষ্টীকরণের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিসটি আইনজীবী অর্ক কুমার নাগের (Arka Kumar Nag) তরফে অগ্নিমিত্রা পালের ইমেল ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। নোটিসের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসিয়াল ইমেল ঠিকানাতেও। অগ্নিমিত্রা পাল বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Urban Development and Municipal Affairs দফতরের মন্ত্রী-ইন-চার্জ। রাজ্য সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁর এই দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।
নোটিসে মূল আপত্তি অগ্নিমিত্রার একটি মন্তব্যকে ঘিরে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ৯ আগস্ট সাংবাদিকদের সামনে অগ্নিমিত্রা প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সুমিত রায়কে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বা কেন তিনি সুমিত রায়ের মৃত্যুর কথা বলছেন। একই বক্তব্যে তিনি সুমিত রায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত দাবি এবং অভিষেকের বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর মক্কেল কখনও সুমিত রায় মারা গিয়েছেন বলে কোনও বক্তব্য দেননি। একই ভাবে সুমিত রায় সংক্রান্ত কোনও বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কোনও সম্পর্কও অভিষেক কখনও তৈরি করেননি বলে নোটিসে স্পষ্ট করা হয়েছে।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, একজন সাংসদ এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করার আগে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষত কোনও মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখলে সেই বক্তব্যের প্রভাব আরও বেশি হয়। তাই সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা প্রকাশ্যে বলার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিসে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের আধিকারিক বা সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে অগ্নিমিত্রা পালের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছনোর কারণেই তিনি ওই মন্তব্য করে থাকতে পারেন। এমনটা হয়ে থাকলে তথ্যের উৎস এবং সরকারি স্তরে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিষেকের পক্ষের আইনজীবী আরও দাবি করেছেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনও মন্ত্রী প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলে তার ফলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন বলে নোটিসে দাবি করা হয়েছে।
নোটিসে অগ্নিমিত্রা পালের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে দুটি বিষয় দাবি করা হয়েছে। প্রথমত, ৯ আগস্ট করা সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, একই ধরনের প্রকাশ্য পরিসরে একটি স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন ব্যাখ্যা দিতে হবে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও সুমিত রায় মারা গিয়েছেন বলে দাবি করেননি এবং তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কোনও সম্পর্কের কথাও বলেননি।
শুধু ওই মন্তব্য প্রত্যাহার নয়, ভবিষ্যতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ্যে বলার আগে সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য যথাযথ ভাবে যাচাই করার কথাও নোটিসে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু একটি মন্তব্য প্রত্যাহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অভিষেকের পক্ষ।
সুমিত রায়কে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত ও আদালত-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়েও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং আদালতে আইনি পদক্ষেপের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এখন নজর ৭ দিনের সময়সীমার দিকে। আইনি নোটিস অনুযায়ী, অগ্নিমিত্রা পাল নোটিস পাওয়ার পর সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে স্পষ্টীকরণ দেবেন—এটাই দাবি অভিষেকের আইনজীবীর। তিনি সেই দাবি মানেন কি না, নাকি পাল্টা কোনও আইনি বা রাজনৈতিক জবাব দেন, তা নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হতে পারে।



