উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণের মৃত্যু ঘিরে তদন্তে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, তাঁর ঘর থেকে গ্রাইন্ডার উদ্ধার, শরীরে বিশেষ ধরনের আঘাত এবং মৃত্যুর আগে CCTV-তে ধরা পড়া গতিবিধি নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে একাধিক সম্ভাবনা। মোবাইলের মুছে দেওয়া চ্যাট, ছবি বা ভিডিয়ো উদ্ধার করতেও ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছে।
দীপক প্রায় দু’বছর আগে প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন। দীক্ষার পর তাঁর নাম হয় রসিক দুলারি শরণ। বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জ আশ্রমে থাকতেন তিনি। শুক্রবার সকালে আশ্রমের চারতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের হাতে থাকা CCTV ফুটেজে ঘটনার আগের কয়েক মিনিটের গতিবিধি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন রসিক। তাঁর পোশাকে তখন রক্তের দাগ দেখা যায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কিছুক্ষণ ঘরের বাইরে থাকার পর তিনি তৃতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলার ছাদে যান। সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর তাঁকে প্রায় ১০ সেকেন্ড শুয়ে থাকতেও দেখা যায়। এরপর উঠে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট নাগাদ ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান।
তবে মৃত্যুর আগে তাঁর শরীরে আঘাতের বিষয়টিই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রসিকের ঘর থেকে একটি গ্রাইন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরের একটি সংবেদনশীল অংশেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। সেই আঘাত কী ভাবে এবং কখন হয়েছে, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম প্রশ্ন। গ্রাইন্ডারটিও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৃন্দাবনের সার্কেল অফিসার সন্দীপ কুমার সিং জানিয়েছেন, আঘাতটির কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। পুলিশ এখনও ঘটনাটিকে প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা হিসেবেই দেখছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, সেই অংশটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রসিকের মোবাইল ফোন। সেটি ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে কোনও ছবি, ভিডিয়ো, চ্যাট বা অন্য কোনও তথ্য মুছে ফেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুছে দেওয়া তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেই চেষ্টাও করছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পড়ে যাওয়ার কারণে মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাতও হয়েছিল। ময়নাতদন্তে একাধিক আঘাতের বিষয় উঠে এসেছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে বৃন্দাবনের সাধু সমাজের একাংশের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন সাধু উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মহন্ত মোহিনী শরণ মহারাজ প্রশাসনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দাবি করেছেন। তবে সাধুদের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন অভিযোগের কোনওটিকেই এখনও তদন্তে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরা হয়নি।
এই মুহূর্তে তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন তিনটি—রসিকের শরীরে ওই আঘাত কী ভাবে হল, তাঁর ঘরে পাওয়া গ্রাইন্ডারের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না এবং ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার আগে শেষ কয়েক মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল। CCTV ফুটেজ, মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য নমুনার রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হওয়ার কথা।



