হাওড়া: এত দিন নবম শ্রেণিতে উঠলে মিলত বিনামূল্যের সাইকেল। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সেই নিয়ম বদলাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী স্কুলে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করে এই ঘোষণা করেন তিনি।
তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের নাম বদলে এবার ‘সারথি’ করা হয়েছে। নতুন নামের পাশাপাশি প্রকল্পের লোগো ও সাইকেলের নকশাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন প্রকল্পে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারাও সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০১৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ‘সবুজসাথী’ প্রকল্প চালু করেছিল। শুরুতে ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হলেও পরে ছাত্রদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পড়ুয়ারা নবম শ্রেণিতে উঠলে সাধারণত এই সুবিধা পেতেন। এবার সেই কাঠামোয় বদল এনে অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাইকেল দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ব্যাঁটরার স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের হাতে প্রতীকী ভাবে ‘সারথি’র সাইকেল তুলে দেন শুভেন্দু। অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মিড-ডে মিলও খান তিনি। তাঁর পাতে ছিল ভাত, ডাল, সয়াবিন-আলু-বড়ির তরকারি এবং টম্যাটোর চাটনি।
শুধু নাম বদল নয়, সাইকেল উৎপাদন নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেই এই প্রকল্পের সাইকেল তৈরির ব্যবস্থা করতে চায় সরকার। যে শিল্পগোষ্ঠী বা সংস্থা রাজ্যে কারখানা তৈরি করে এই প্রকল্পের জন্য সাইকেল উৎপাদনে আগ্রহী হবে, তাদের বিনামূল্যে জমি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সাইকেলের গুণমান নিয়েও নতুন ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সাইকেলের গুণমান পরীক্ষার জন্য ত্রিস্তরীয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খারাপ রাস্তা বা দীর্ঘ পথেও যাতে পড়ুয়ারা সাইকেল ব্যবহার করতে পারে, সে দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগের সরকারের আমলের সাইকেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগে পঞ্জাবের জলন্ধর থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে রাজ্যে সাইকেল তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যবস্থার সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এক আত্মীয় এবং পরিচিতের যুক্ত থাকার অভিযোগও করেন তিনি। এই বক্তব্যটি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক দাবি; এর সমর্থনে কোনও স্বাধীন নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের উৎসগুলিতে দেওয়া হয়নি। তাই বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পড়ুয়াদের জন্য শুধু সাইকেল নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইলের ব্যবহার কমানোর আবেদন করে তিনি জানান, পড়ুয়াদের স্মার্ট ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলকে ‘স্মার্ট স্কুল’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্কুলে এনসিসি চালুর কথাও বলেন তিনি।
নতুন ‘সারথি’ প্রকল্পে নাম বদলের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল সুবিধাভোগীদের শ্রেণি। নবমের বদলে অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাইকেল পাওয়ার কথা ঘোষণা হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে আরও কম বয়সে পড়ুয়াদের হাতে সরকারি সাইকেল পৌঁছবে। প্রকল্পটির পরবর্তী ধাপে রাজ্যে উৎপাদন, স্থানীয় শিল্পে সুযোগ এবং সাইকেলের গুণমান—এই তিনটি বিষয় কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।



