নন্দীগ্রামে বড় আইনি স্বস্তি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের, ভোটের আগে অন্তর্বর্তী জামিন দিল হাই কোর্ট

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভোটপর্ব শেষ হলে তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ছ’টি মামলাতেই আপাতত জামিন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে জেলের বাইরে থেকেই ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়াই ও প্রচারে অংশ নিতে পারবেন মিলন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অন্তর্বর্তী জামিন তিন সপ্তাহের জন্য কার্যকর থাকবে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জামিনের মেয়াদ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বলা হয়েছে। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর মিলনকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মিলনের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলিতে এই জামিন দেওয়া হয়েছে, সেগুলির কয়েকটি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-পর্বের। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, প্রায় ১৯ বছর পুরনো মামলাগুলিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নির্বাচনী লড়াই ও প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে মিলনের গ্রেফতারি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক শুনানি হয়েছে। গত সপ্তাহে ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জন্য আগে দেওয়া সুরক্ষা তুলে দিয়ে তাঁকে নিয়মমাফিক জামিনের আবেদন করতে বলেছিল। সেই নির্দেশের পরেই অন্তর্বর্তী জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস প্রার্থী।

জামিনের শুনানিতে রাজ্যের তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট-সহ একাধিক আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া হয়েছিল। সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কার কথাও রাজ্যের তরফে আদালতে বলা হয়েছিল।

অন্য দিকে, মিলনের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাগুলি দীর্ঘদিনের এবং তাঁকে অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে রাজ্য কী তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

মঙ্গলবারের শুনানিতে আদালত আরও একটি বিষয় বিবেচনায় নেয়—নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন সামনে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মিলন মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় হেফাজতে ছিলেন না এবং ২০০৭ সালের পর তাঁকে অন্য কোনও অপরাধের ঘটনায় খোঁজা হচ্ছিল, এমন তথ্যও রাজ্যের তরফে দেখানো হয়নি।

আদালত আরও উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত সিবিআই (Central Bureau of Investigation) করেছিল। পাশাপাশি, যে মামলাগুলির ভিত্তি প্রায় ১৯ বছর পুরনো, সেগুলিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই গ্রেফতারের বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসে।

এই মামলার আইনি পর্বের সঙ্গে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোট হওয়ার কথা। অন্তর্বর্তী জামিনের ফলে আপাতত জেলের বাইরে থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।

তবে এই জামিন মামলাগুলির মূল বিচার বা অভিযোগের নিষ্পত্তি নয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মিলনকে ফের হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন