দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা পুজো পরিক্রমার নামে ‘ভুয়ো পাস’ বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। সেই তদন্তের সূত্রেই বুধবার সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন।
ইডি সূত্রে অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলগুলিতে বিশেষ ‘প্রিভিউ শো’ দেখানোর জন্য পাস বিক্রি করা হয়েছিল। ওই পাসের সঙ্গে ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সংগঠনটি নিজেকে ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা তাদের অনুমোদিত বলে প্রচার করেছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বহু মানুষ এই ‘প্রিভিউ পাস’-এর জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, পাসের দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল।
এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখছে ইডি। ‘মাস আর্ট’ সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই সংগঠনের আর্থিক লেনদেন, পাস বিক্রির প্রক্রিয়া এবং টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছিল—সবই তদন্তের অংশ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। কসবার বাড়ি ছাড়াও সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। মোট ১৫টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে ইডি-সংক্রান্ত রিপোর্ট।
ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত বলে তদন্তকারীরা যাঁদের চিহ্নিত করেছেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য এবং নথিপত্রের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করবে তদন্তকারী সংস্থা।
বুধবার ইন্দ্রনীল সেনকে সল্টলেকের ইডি দফতরে তলব করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নথি চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর পাস বিক্রির সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, সংগঠনের আর্থিক কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি কতটা জানতেন এবং ইউনেস্কোর নাম ব্যবহারের অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয়েই জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে। ইডি-র দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা বলে টাকা সংগ্রহ করা হয়ে থাকলে সেই দাবির সত্যতা এবং সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার দু’টিই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই ঘটনায় এর আগে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে আর্থিক তছরুপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডি।
তবে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।



