এসআরএফটিআই কাণ্ডে সিট গঠন, গোয়েন্দা প্রধানের নেতৃত্বে তদন্ত

এসআরএফটিআইয়ে পড়ুয়া ও অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনায় সিট গঠন করল কলকাতা পুলিশ। ১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বা এসআরএফটিআইয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় এবার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল কলকাতা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই দল ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবে। ১ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

তদন্তকারী দলে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট) স্পর্শা নিলাঙ্গি, সিআইডির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কৌশিক ঘোষ, কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি-রাউডি সেকশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সালিল রায়, ইস্টার্ন সাবার্বান ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তুষারকান্তি ঘোষ এবং ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ইন্সপেক্টর হীরক দলপতি রয়েছেন। প্রয়োজনে দলে আরও আধিকারিককে যুক্ত করা হতে পারে।

২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া এবং অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংগঠনটি ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ব্যবহার করছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ সেই অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানান।

এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করায় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বাইরে থেকে লোকজন ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে। কয়েকজন পড়ুয়া ও শিক্ষক আহত হন বলেও অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেই হামলা এবং তাঁদের সদস্যদের আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বক্তব্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’, ‘টেররিস্ট’ বা অন্য অবমাননাকর নামে আক্রমণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, পড়ুয়ারাই প্রথমে অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি-সহ পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই এখন বিস্তারিত তদন্ত করবে সিট।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মূল গেটের বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। সোমবারও ক্লাস হয়নি এবং পড়ুয়ারা নীরব প্রতিবাদে অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের একাংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য অ্যাকাডেমিক বয়কটের ডাক দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশের অভিযোগের পাশাপাশি অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত এবং এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেও মামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি মামলায় পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।

নতুন সিটের তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিয়ো এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নেওয়া হবে। সংঘর্ষের আগে কী ঘটেছিল, কীভাবে পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত পৌঁছল এবং কারা সরাসরি ঘটনায় যুক্ত ছিলেন—এই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদা করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া, শিক্ষক, অনুষ্ঠান আয়োজক এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিট। ঘটনার পিছনে কোনও বৃহত্তর যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীরা যাচাই করবেন।

ইতিমধ্যে এসআরএফটিআইয়ের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক, শিল্পী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসে সংহতি কর্মসূচিতেও অংশ নেন। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং ছাত্রদের জন্য হস্টেল সংক্রান্ত একাধিক দাবি তুলেছেন।

এখন সিটের তদন্তেই স্পষ্ট হবে রবিবারের সংঘর্ষের প্রকৃত ধারাবাহিকতা কী ছিল এবং কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগের প্রমাণ মিলছে। ১ অক্টোবর জমা পড়তে চলা প্রাথমিক রিপোর্ট তাই এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন