নন্দীগ্রামে ‘খাম’ প্রতীক কার দখলে? জানিয়ে দিল আদালত

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে আইএসএফের করা মামলা খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার আপাতত অবসান। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ করা ‘খাম’ প্রতীক নিয়েই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়াই করতে পারবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস (DTC)।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ কমিশনের যুক্তিকে মান্যতা দিয়েই আইএসএফের আবেদন খারিজ করেছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহারে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে আর এই মামলার কোনও আইনি বাধা থাকল না।

‘খাম’ প্রতীকটি ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহার করেছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। কিন্তু আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ওই প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে বরাদ্দ করে।

আইএসএফকে পরিবর্তে ‘আলমারি’ প্রতীক দেওয়া হয়। পুরনো প্রতীক ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন নওশাদ সিদ্দিকি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন তিনি।

মামলায় আইএসএফের মূল বক্তব্য ছিল, সাম্প্রতিক দুই বিধানসভা নির্বাচনেই তারা ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করেছে। সেই প্রতীক অন্য একটি দলকে কেন দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নওশাদদের দল।

মামলার শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। বিশেষ করে কোন আইনি বিধানের ভিত্তিতে আইএসএফের ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হল, তা জানতে চেয়েছিল আদালত।

সোমবারের শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি। আদালত জানতে চেয়েছিল, আইএসএফও যখন ওই প্রতীকের জন্য আবেদন করেছিল, তখন সেই আবেদন বিবেচনা করা হয়েছিল কি না এবং প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্তের পিছনে কী নথি বা আইনি ভিত্তি ছিল।

সেই সময় বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, আগের প্রতীক পাওয়াকে আইএসএফের অধিকার বলা না গেলেও দলটির সেটি চাওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে অন্য একটি দলকে সেই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়েও কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।

শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছিল, সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন এক নয়। কোনও নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। ফ্রি সিম্বল বা মুক্ত প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলেও যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

কমিশনের আরও বক্তব্য ছিল, কোনও রাজনৈতিক দলেরই একটি নির্দিষ্ট মুক্ত প্রতীকের উপর স্থায়ী অধিকার তৈরি হয় না। প্রতীক কোনও দলের সম্পত্তি নয়। সেই যুক্তির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছিল কমিশন।

সোমবার শুনানি শেষে রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। তার পর মঙ্গলবার আইএসএফের করা মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।

এর ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে আইএসএফকে বরাদ্দ করা ‘আলমারি’ প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে লড়তে হবে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে প্রতীক নিয়ে এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটায় এখন নির্বাচনী প্রচারের দিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন