নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েনে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। নতুন করে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পুলিশি পদক্ষেপ করা যাবে না। তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতারও দেখানো যাবে না। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই সুরক্ষা বহাল থাকবে বলে আদালতের নির্দেশ।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হয়। মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগ করেন, আগের শুনানিতে রাজ্যের বক্তব্যের পরেও তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা সামনে এসেছে। আদালতের কাছে তাঁর আবেদন ছিল, ভোটের আগে একের পর এক মামলায় মিলনকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়ার পরিস্থিতি বন্ধ করা হোক।
রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার অবশ্য আদালতে জানান, সংশ্লিষ্ট মামলাটি নতুন করে তৈরি করা হয়নি। রাজ্যের বক্তব্য, মামলাটি আগে থেকেই ছিল এবং তার ভিত্তিতেই আইনগত পদক্ষেপ করা হয়েছে। মিলনের আইনজীবী এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি এবং বুধবারও নতুন মামলার তথ্য আদালতের নজরে আনা হয়েছিল বলে দাবি করেন।
শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ২০০৭ সালের মামলায় এত বছর পর তদন্ত ও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, আগেই রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে মিলনের বিরুদ্ধে থাকা নির্দিষ্ট মামলাগুলিতে আপাতত নতুন করে পদক্ষেপ করা হবে না। সেই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশকে সম্মান করে পরবর্তী পদক্ষেপ না করার কথাই বলা হয়।
আদালত স্পষ্ট করেছে, নতুন মামলায় আপাতত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। অর্থাৎ ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো বা নতুন করে হেফাজতে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ থেকে পুলিশকে বিরত থাকতে হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর।
তবে এই নির্দেশের অর্থ মিলন প্রধান ইতিমধ্যেই যে মামলাগুলিতে জেল হেফাজতে রয়েছেন, সেগুলি থেকে তিনি মুক্ত হয়ে গেলেন—এমন নয়। তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো মামলায় হওয়া গ্রেফতারি এবং সেই মামলাগুলিতে জামিনের বিষয়টি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি হাই কোর্টে তাঁর জামিনের আবেদনও করা হয়েছে।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-পর্বের একাধিক মামলা রয়েছে বলে আদালতে তথ্য উঠে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরনো মামলায় জারি থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়।
এর আগে মিলনের আইনজীবী বাকি মামলাগুলিতেও ‘শোন অ্যারেস্ট’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। সেই শুনানিতে রাজ্য জানিয়েছিল, যে পাঁচটি মামলা নিয়ে সুরক্ষা চাওয়া হয়েছিল, সেগুলিতে আপাতত মিলনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। আদালতও সেই পর্যায়ে আলাদা অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন দেখেনি এবং ১২ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছিল।
এই আইনি লড়াইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের সময়সূচির কারণে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। ফলে প্রার্থী নিজে প্রচারে কতটা অংশ নিতে পারবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চলতি মামলাগুলিতে জামিন ও আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপর।
মিলনের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর মক্কেলকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে রাজ্যের বক্তব্য, পুরনো মামলায় জারি থাকা পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনগত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে গ্রেফতারির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার পাশাপাশি আদালতে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—কোন মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে এখন আইনগত পদক্ষেপ করা যেতে পারে এবং কোন মামলায় তা আপাতত বন্ধ থাকবে।



