জিটি রোড-সহ বাস চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ রুটে টোটো চলাচল বন্ধ করতে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ দফতর। জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো নিয়ন্ত্রণের নির্দেশের পর এবার জিটি রোড এবং গুরুত্বপূর্ণ বাসরুটগুলিতেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি দিয়েছেন পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিব রবি ইন্দর সিং।
পরিবহণ দফতরের বক্তব্য, ই-রিকশা বা টোটোর মূল উদ্দেশ্য স্বল্প দূরত্বে যাত্রীদের ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ দেওয়া। ২০১৪ সালের কেন্দ্রীয় নিয়মেও ই-রিকশাকে এই ধরনের পরিষেবার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ দফতরও পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট রুটে ই-রিকশা চালানোর জন্য নির্দেশিকা জারি করে।
সেই নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল। ২০১৬ সালের রাজ্য পরিবহণ দফতরের নথিতেও নির্দিষ্ট রুটের বাইরে টোটো চলাচল নিয়ে কঠোরভাবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু পরিবহণ দফতরের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে টোটো যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। দফতরের যুক্তি, ব্যস্ত রাস্তায় টোটোর কারণে যান চলাচলের গতি কমতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই নিষিদ্ধ রাস্তাগুলিতে নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য পুলিশ-প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বিশেষ নজরে এসেছে জিটি রোড। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সড়ক সংক্রান্ত নথিতেও জিটি রোডের বিভিন্ন অংশকে রাজ্য সড়ক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক অংশ এই শ্রেণির মধ্যে রয়েছে।
ফলে রাজ্যের নির্দেশ অনুযায়ী জিটি রোডে টোটো চলাচল বন্ধ করার বিষয়টিও কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যে সমস্ত রুটে নিয়মিত বাস পরিষেবা রয়েছে, সেখানেও টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
নির্দেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ রাস্তায় টোটো চালানো হলে মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু নির্দেশ জারি করেই থেমে না থেকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি এবং আইনানুগ পদক্ষেপের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে বাস পরিষেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহণ দফতর সূত্রে দাবি, বিভিন্ন জেলার বাসমালিকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটোর সংখ্যা বাড়ায় বাসের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মফঃস্বল এলাকায় কিছু বাসরুটে যাত্রী কমে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁদের তরফে তুলে ধরা হয়েছে।
সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, বড় রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করার দাবিতে তাঁরা পরিবহণ দফতরে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন। সরকারের নির্দেশ কার্যকর হলে বাস পরিষেবার গতি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমতে পারে বলেও তাঁর দাবি।
এর পাশাপাশি বেআইনি টোটোর পরিবর্তে নিয়ম মেনে ই-রিকশা পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা ও মফঃস্বল এলাকায় যেসব বাসরুট টোটোর কারণে কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেগুলির কিছু পুনরায় চালুর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর।
অর্থাৎ, রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় টোটোর চলাচলকে সম্পূর্ণ বন্ধ করার বদলে কোন রাস্তা বা কোন রুটে এই যান চলতে পারবে, সেই ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার দিকেই আপাতত জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন নজর থাকবে জিটি রোড এবং বাসরুটগুলিতে এই নির্দেশ কতটা বাস্তবে কার্যকর হয়।



