তৃণমূলের পুরনো নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে বড় আপডেট, মমতার মামলায় কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?

তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগবে, তা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কমিশনকে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি সোমবার।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল, দুই পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েও কীভাবে অযথা দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানো যায়। কমিশনের কাছে সেই অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চেয়েছে বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনেরও পর্যাপ্ত সময় থাকা প্রয়োজন।

এই মামলার সূত্রপাত নির্বাচন কমিশনের ১৭ সেপ্টেম্বরের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত থেকে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

পরের দিন দুই গোষ্ঠীর জন্য অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীকও নির্ধারণ করে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়। অন্য গোষ্ঠীর জন্য ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক নির্ধারিত হয়। এই নাম ও প্রতীকগুলি সংশ্লিষ্ট উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হয়ে আদালতে দ্রুত শুনানির আবেদন করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। মামলায় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকেও পক্ষ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে আদালত অবশ্য সরাসরি জোড়াফুল প্রতীক বা তৃণমূলের পুরনো নাম কোনও পক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। বরং পুরো বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে কতটা সময় প্রয়োজন, সেই বিষয়টিকেই আপাতত সামনে রেখেছে বেঞ্চ। কমিশনের কাছ থেকে সময়সীমা জানার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ কারণ আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে ভোটের আগে তৃণমূলের মূল নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি হবে কি না, তা এখন আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং কমিশনের প্রস্তাবিত সময়সীমার উপর নির্ভর করছে। কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার কারণেই দুই গোষ্ঠী বর্তমানে আলাদা নাম ও প্রতীকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের মূল বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন দলের পরিচিত নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তে তাঁর গোষ্ঠীর নির্বাচনী অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার লক্ষ্য হল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে একই নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া।

এখন নজর সোমবারের শুনানিতে। তার আগে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে, দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনা করে তৃণমূলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে তাদের কতটা সময় প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন