পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন? ভোটের আগে সেই তালিকায় ফিরতে পারেননি? এবার ভোটের প্রায় পাঁচ মাস পর Form 6-এর অনলাইন আবেদনে যুক্ত করা সেই বাড়তি SIR-সংক্রান্ত ঘোষণাটি সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—SIR-এর পরে যাঁরা ভোটার তালিকায় ফিরতে চাইছিলেন, তাঁদের জন্য Form 6-এর ওই বাড়তি শর্ত কি বাস্তবে কোনও বাধা তৈরি করেছিল?
৩০ সেপ্টেম্বর রাতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ যেসব রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, সেখানে ECINET-এর Form 6 থেকে অতিরিক্ত SIR declaration সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ওই রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী নির্ধারিত Form 6-ই ব্যবহার করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আলাদা। কারণ, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে SIR-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং adjudication-এর পরে ২৭,১৬,৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে তালিকা freeze হয়ে যাওয়ায় ১৪,২৮,৭৭১ জন ভোট দিতে পারবেন না বলে ৭ এপ্রিলের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল। [SIR-এ নাম বাদ? Form 6 থেকে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র সরাল কমিশন, ‘অবৈধ’ বলেছিলেন দুই কমিশনার!]
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, ওই ২৭.১৬ লক্ষ বাদ-পড়া ভোটারের মধ্যে ২২.২১ লক্ষের বেশি পুনরায় তালিকাভুক্তির জন্য appeal করেছেন। সব মিলিয়ে inclusion এবং deletion—দুই ধরনের আবেদন-সহ ৩৮.৩১ লক্ষ appeal জমা পড়েছিল। ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনকে ফের তালিকায় যুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।
অর্থাৎ, SIR-এর পরেও পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটার তালিকায় ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। সেই সময়ই Form 6-এর অনলাইন প্রক্রিয়ায় বাড়তি SIR-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
Form 6-এ কী বাড়তি শর্ত ছিল?
Form 6 হল ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্ধারিত statutory form। প্রথমবার ভোটার হওয়া ব্যক্তি, কোনও কারণে আগে ভোটার তালিকায় নাম না থাকা নাগরিক অথবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নতুন করে inclusion চাওয়া ব্যক্তিরা এই ফর্ম ব্যবহার করেন।
জুলাইয়ে ECINET-এর online Form 6-এ একটি নতুন declaration section যুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হত—তাঁর নিজের নাম, অথবা তাঁর বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদার নাম আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় ছিল কি না। থাকলে সংশ্লিষ্ট booth এবং serial number-এর তথ্যও চাওয়া হচ্ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই section-টি আলাদা করে “mandatory” হিসেবে চিহ্নিত ছিল না। কিন্তু Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, declaration-এর প্রশ্নের উত্তর না দিলে online Form 6-এর submission-এর পরবর্তী ধাপে এগোনো যাচ্ছিল না।
এই জায়গাটিই প্রথমবারের ভোটার বা এমন কোনও নাগরিকের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারত, যাঁর নিজের বা পরিবারের পুরনো SIR-এর electoral roll-এর তথ্য হাতের কাছে নেই।
তবে “এই শর্তের কারণেই কতজন ভোটার আটকে গিয়েছিলেন”—এমন নির্দিষ্ট সরকারি সংখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাই সেই সংখ্যাকে অনুমান করে বলা ঠিক হবে না।
কেন এই পরিবর্তন নিয়ে কমিশনের ভিতরেই আপত্তি উঠেছিল?
Form 6 নিয়ে বিতর্কের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্বাচন কমিশনের ভিতরের আপত্তি।
Indian Express-এর প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী Form 6-এর পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, Registration of Electors Rules, 1960-এর অধীনে নির্ধারিত একটি statutory form-এ এই ধরনের পরিবর্তন করতে হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধুও সেই আপত্তির সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। পরে Form 6-এর online version-এ SIR declaration যুক্ত হওয়ার পরও তিনি আপত্তি জানান এবং পরিবর্তনটিকে “unauthorised/illegal” বলে অভিহিত করেছিলেন বলে Indian Express জানিয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য অবস্থান ছিল ভিন্ন। কমিশন জানিয়েছে, Form 6 নিজে সংশোধন করা হয়নি; SIR চলাকালীন একটি অতিরিক্ত declaration যুক্ত করা হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, SIR-এর সময় ওই declaration প্রযোজ্য ছিল এবং SIR শেষ হলে সাধারণ statutory form-এ ফিরে যাওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গে কতজন এর ফলে সমস্যায় পড়েছিলেন?
এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ unanswered question।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৩৪,১৩,৪৮১টি Form 6 application জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৭,০৭,৬০৬টি আবেদনের ভিত্তিতে electoral roll update করা হয়েছিল, আরও ১৪,০৭৯টি application accepted হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। কিন্তু ৭,২৬,৬৬০টি Form 6 application rejected হয়েছিল এবং বিপুল সংখ্যক আবেদন তখনও processing-এর মধ্যে ছিল।
কিন্তু এই সংখ্যাগুলির সঙ্গে Form 6-এর অতিরিক্ত SIR declaration-কে সরাসরি জুড়ে দেওয়া যাবে না।
কারণ ৩৪.১৩ লক্ষ আবেদনের সময়সীমা ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৬। তার মধ্যে declaration চালু হওয়ার আগের আবেদনও রয়েছে। ফলে ৭.২৬ লক্ষ rejected application-এর প্রত্যেকটিকে ওই বাড়তি শর্তের ফল বলা তথ্যগতভাবে ভুল হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য হল—
১২ জুলাইয়ের পর কত Form 6 জমা পড়েছিল?
তার মধ্যে কতটি rejected হয়েছিল?
কতজন declaration-এর তথ্য দিতে না পেরে আবেদন সম্পূর্ণ করতে পারেননি?
কতটি rejection-এর সঙ্গে ওই অতিরিক্ত SIR তথ্যের সরাসরি সম্পর্ক ছিল?
এই breakdown এখনও প্রকাশ্যে নেই।
SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের সঙ্গে Form 6-এর সম্পর্ক কোথায়?
এখানেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
SIR adjudication-এর পরে বাদ পড়া ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২২.২১ লক্ষের বেশি পুনরায় inclusion-এর জন্য appeal করেছিলেন।
অন্যদিকে, Form 6 হল electoral roll-এ inclusion-এর মূল statutory route। ফলে SIR-এর পরে যাঁরা তালিকার বাইরে ছিলেন, তাঁদের একটি অংশকে শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় ফেরার জন্য inclusion-এর প্রক্রিয়ার মধ্যেই যেতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে Form 6-এ যদি অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—পুরনো SIR-এর booth বা serial number না জানা কোনও সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে application process কতটা সহজ ছিল?
কিন্তু এখানেও সতর্কতা জরুরি।
এখনও এমন কোনও সরকারি তথ্য নেই, যা থেকে বলা যায় যে Form 6-এর অতিরিক্ত declaration-এর কারণে নির্দিষ্ট সংখ্যক পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ফিরতে পারেননি।
তাই এই প্রতিবেদনের মূল প্রশ্নটি হল—বাধা হয়েছিল কি না, এবং হয়ে থাকলে কতজনের ক্ষেত্রে হয়েছিল?
আজকের সিদ্ধান্তে কী বদলাল?
২৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, SIR শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে non-SIR period-এ Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী নির্ধারিত forms ব্যবহার করা হবে। চার দিন পর, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ECINET থেকে অতিরিক্ত declaration সরিয়ে দেওয়া হয়।
এখন পশ্চিমবঙ্গে SIR শেষ হওয়ায় নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য online Form 6-এ ওই SIR-specific অতিরিক্ত অংশটি আর থাকছে না।
অন্যদিকে, যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR এখনও চলছে, সেখানে ওই declaration এখনও রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ কমিশনের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, বাড়তি declaration-টি স্থায়ী Form 6-এর অংশ নয়; এটি SIR চলাকালীন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।
তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের জন্য আসল প্রশ্ন কী?
পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর পরে ভোটার তালিকা নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিসর বোঝার জন্য তিনটি সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ—
২৭,১৬,৩৯৩ — adjudication-এর পরে বাদ পড়া ভোটার।
২২.২১ লক্ষের বেশি — বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে পুনরায় inclusion-এর জন্য appeal করা মানুষ।
৩৪,১৩,৪৮১ — ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জমা পড়া Form 6 application। এর মধ্যে ৭,২৬,৬৬০টি rejected হয়েছিল।
কিন্তু এই তিনটি সংখ্যার মধ্যে সরাসরি causal link তৈরি করার মতো data এখনও প্রকাশ্যে নেই।
বিশেষ করে Form 6-এর অতিরিক্ত declaration চালু থাকার সময় কতজন আবেদন করেছিলেন এবং তাঁদের কতজনের application আটকে বা বাতিল হয়েছিল, সেই তথ্য প্রকাশ করা হলে তবেই বোঝা যাবে এই বাড়তি শর্তের বাস্তব প্রভাব কতটা ছিল।
আজ কমিশন সেই শর্ত সরিয়ে দিয়েছে। ফলে এখন স্বাভাবিকভাবেই আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসছে—যে বাড়তি তথ্য ছাড়া ECINET-এ Form 6-এর আবেদন এগোনো যাচ্ছিল না, সেটি চালু থাকার সময়ে কতজন ভোটার সমস্যায় পড়েছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে date-wise Form 6 application, rejection reason এবং declaration-related rejection-এর পূর্ণ data প্রকাশ করা প্রয়োজন।
কারণ পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর পর যাঁরা electoral roll-এ ফেরার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাছে বিষয়টি নিছক একটি online form-এর technical change নয়। তাঁদের কাছে প্রশ্নটি হল—ভোটার তালিকায় ফেরার দরজা কতটা সহজ ছিল, আর সেই দরজায় কোনও অতিরিক্ত শর্ত কতজনকে আটকে দিয়েছিল।
তথ্য সূত্র
- নির্বাচন কমিশনের ECINET ও electoral roll সংক্রান্ত তথ্য
- The Indian Express — Form 6-এ SIR declaration যুক্ত করা এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি সংক্রান্ত প্রতিবেদন
- The Indian Express — পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর পরে ২৭.১৬ লক্ষ deleted voter এবং ২২.২১ লক্ষের বেশি appeal সংক্রান্ত প্রতিবেদন
- The Indian Express — ২৭,১৬,৩৯৩ ভোটারের মধ্যে প্রথম দফার আগে ১৪,২৮,৭৭১ জন ভোট দিতে পারবেন না—এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন
- পশ্চিমবঙ্গে Form 6-এর ৩৪.১৩ লক্ষ আবেদন এবং ৭.২৬ লক্ষ rejection-এর ECI data analysis
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ Form 6 থেকে অতিরিক্ত SIR declaration সরানোর প্রতিবেদন



