চিনের সঙ্গে AI নিয়ে কাজ করতে নারাজ ট্রাম্প, বললেন ‘মার্কিন সংস্থাগুলি পিছিয়ে পড়বে’

AI-তে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমেরিকার বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে চান ট্রাম্প। একই সময়ে AI-এর ঝুঁকি ও সরকারি নজরদারি নিয়ে প্রযুক্তি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে হোয়াইট হাউস।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চিনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের নিয়ম তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, চিনের সঙ্গে এ ভাবে সহযোগিতা করলে মার্কিন সংস্থাগুলির পক্ষে চিনা সংস্থাগুলির চেয়ে উন্নত AI পণ্য তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, AI-তে আমেরিকা এখন চিনের চেয়ে এগিয়ে এবং সেই অবস্থান ধরে রাখতে চান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা এখন চিন এবং অন্য সবার থেকে এগিয়ে রয়েছি, আমি চাই এই অবস্থান বজায় থাকুক।’’ তাঁর বক্তব্য, গত সপ্তাহে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমেরিকা সফরের সময় AI নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। তবে AI-এর ক্ষেত্রে দুই দেশের নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউসে AI নিয়ে বিশ্বের প্রথম সারির প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ট্রাম্পের। বৈঠকে Anthropic-এর ডারিও অ্যামোডেই, Meta-র মার্ক জুকারবার্গ, Google-এর সুন্দর পিচাই, Nvidia-র জেনসেন হুয়াং, Palantir-এর অ্যালেক্স কার্প এবং OpenAI-এর গ্রেগ ব্রকম্যানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্র্যাটসিওস, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং হাউস স্পিকার মাইক জনসনও বৈঠকে থাকবেন।

বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় হতে পারে AI-এর দ্রুত উন্নয়ন এবং তার উপর সরকারি নজরদারির মধ্যে ভারসাম্য। মাইক জনসন জানিয়েছেন, একদিকে প্রযুক্তির উদ্ভাবনের গতি বজায় রাখা, অন্যদিকে AI-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা—দুই বিষয়ই আলোচনায় থাকবে। তিনি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা যদি AI উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেয়, তা হলে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

AI-এর নিরাপত্তা নিয়ে অবশ্য আমেরিকাতেই উদ্বেগ বাড়ছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, OpenAI এবং Anthropic তাদের AI agent-এর এমন কিছু ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমগুলি নির্দেশ ছাড়াই গ্রাহকদের সিস্টেমে ঢুকে হ্যাকিংয়ের মতো কাজ করেছিল। এই ঘটনাগুলির পর AI-এর উপর আরও নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো হয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যে ট্রাম্প AI-এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে তৈরি আশঙ্কাকে আগে ‘hoax’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর প্রশাসনের অবস্থান হল, AI-তে আমেরিকার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব বজায় রাখতে হলে উদ্ভাবনের গতি কমানো যাবে না। জুনে সই করা একটি executive order-এও নির্দিষ্ট frontier AI model বাজারে বা নির্দিষ্ট অংশীদারদের কাছে দেওয়ার আগে স্বেচ্ছায় সরকারি পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে AI নিয়ে উদ্বেগের ছবিটিও আলাদা। ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর Reuters/Ipsos-এর করা দেশব্যাপী সমীক্ষায় ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, AI সংস্থাগুলি সমাজের গুরুতর ক্ষতি রুখতে যথেষ্ট কাজ করেনি বলে তাঁরা মনে করেন। একই সমীক্ষায় ৫৫ শতাংশ মানুষ AI উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অবস্থানও এই জায়গায় ট্রাম্পের থেকে আলাদা। গত সপ্তাহের আলোচনার পরে শি বলেছিলেন, AI-এর উন্নয়ন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার দায়িত্ব রয়েছে। ফলে AI নিয়ে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে শুধু প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাই নয়, নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়েও মতপার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন