দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত শাহর সাক্ষাৎ। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের শিবিরে নাম লেখানোর পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। জাতীয় রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনে লোকসভায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
শনিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের পর সরাসরি অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, প্রায় আধঘণ্টা ধরে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়। এরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরে যোগ দেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে।

সংসদের বিভিন্ন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সৌজন্যমূলক সম্পর্কও বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সুদীপের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরও তিনি তৃণমূলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে লোকসভায় দলনেতার দায়িত্ব পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। একদিকে তৃণমূলের অন্দরে মতভেদ, অন্যদিকে সংসদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা—এই পরিস্থিতিতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্রের দাবি, শনিবার সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে তিনি প্রথমে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান। সেখানে বৈঠক শেষে অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর রাজনৈতিক অন্দরে জল্পনা আরও তীব্র হয়।
জানা যাচ্ছে, রবিবার বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথক ব্লক হিসেবে বসার আবেদনও জানানো হতে পারে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে আগামী দিনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দিল্লিতে তাঁর সাম্প্রতিক তৎপরতা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।
এখন নজর থাকবে এই বৈঠকের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে। কারণ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত শাহর সাক্ষাৎ যে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে, তা নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।



