ভোটে বড় ধাক্কার পর এবার দলকে নতুন করে গড়ার ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “যাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার, তাঁরা বেরিয়ে চলে যান। আমি কাউকে আটকাব না।” একইসঙ্গে দলের প্রতি অনুগত কর্মীদের ‘নিরেট সোনা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে যখন অসন্তোষ ও দলবিরোধী মন্তব্য বাড়ছে, ঠিক তখনই মমতার এই কড়া বার্তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার কালীঘাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনে পরাজিত একাধিক তৃণমূল প্রার্থী ও নেতা। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করার নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, “পার্টি অফিসগুলো রং করুন, ভেঙে যাওয়া অংশ সারিয়ে তুলুন। আমি নিজেও পার্টি অফিস রং করব।”


এদিন নাম না করে দলত্যাগীদেরও নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “অনেকে এখন রং বদলাচ্ছে। তাঁরা চলে যান।” একইসঙ্গে জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে ভোটে পরাজয়ের কারণ জানতে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছেন তিনি।
তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতা নির্দেশ দিয়েছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক জেলায় রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কেন হার হয়েছে, কোথায় সংগঠনের দুর্বলতা ছিল— সবই জানাতে হবে নেতৃত্বকে। পাশাপাশি ব্লক, টাউন ও অঞ্চল স্তরে ছোট ছোট মিছিল ও বৈঠক শুরু করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছেন বলে দাবি, তাঁদের তালিকাও কালীঘাটে জমা দিতে বলা হয়েছে। আইনি সহায়তার জন্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দায়িত্বে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, দলীয় নেতাদের ‘বেফাঁস মন্তব্য’ করা নিয়েও সতর্ক করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “যা যা বলা হচ্ছে, সব নজরে আছে। এতদিন কেন দলকে বলেননি? কিছু বলার থাকলে দলের ভিতরে বলুন।”
একুশের নির্বাচনে ২১৫ আসন পাওয়া তৃণমূল এবার নেমে এসেছে ৮০-তে। অন্যদিকে বিজেপি ২০৭ আসন পেয়ে সরকার গড়েছে। এই বিপর্যয়ের পর দলীয় সংগঠনকে কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়, সেই পথ খুঁজতেই কালীঘাটে এই বৈঠক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







