ফলতায় থানায় হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর অবস্থানের পর এবার গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’র স্ত্রীকে। শনিবার সকালে ফলতা থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫-এ।
গত মঙ্গলবার জাহাঙ্গির খানকে গ্রেপ্তারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জাহাঙ্গিরের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন জাহাঙ্গিরের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একাংশের পরিকল্পনা ছিল ফলতা থানা ঘেরাও করার। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। ধাওয়া খেয়ে অনেককে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েও পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ঘটনার পর বুধবার ফলতার জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। রাজ্যে গুন্ডামি বা জঙ্গিপনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সেই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের পরিচয় ভিডিও ফুটেজে উঠে এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দেশদ্রোহ-সংক্রান্ত ধারাও যুক্ত করা হয়েছে মামলায়।
ফলতা থানায় হামলার ঘটনায় পুলিশ এখন ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক মহলে।



