কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ফের রাস্তায় নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এবার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘থালা’ ও ‘চামচ’, যা একসময় করোনা যোদ্ধাদের সম্মান জানানোর জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
বিক্ষোভের আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, প্রত্যেকে যেন একটি থালা ও একটি চামচ সঙ্গে নিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছন। তাঁর বক্তব্য, এরপর কী করতে হবে তা দেশবাসীর অজানা নয়।
এই কর্মসূচির পিছনে রয়েছে ২০২০ সালের সেই বহুল আলোচিত ‘থালা বাজানো’ উদ্যোগের স্মৃতি। করোনা অতিমারির সময় স্বাস্থ্যকর্মী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদের সম্মান জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে নির্দিষ্ট সময়ে থালা, ঘণ্টা বা করতালি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই প্রতীককেই এবার প্রতিবাদের ভাষায় ব্যবহার করতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি।
দলটির দাবি, নিট-সহ বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি প্রয়োজন। সেই কারণেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে তারা।
দিল্লি পুলিশের অনুমতি নিয়েই এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি। প্রশাসনের তরফে যন্তর মন্তর চত্বরে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং রিয়েল-টাইম নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরে এটি ককরোচ জনতা পার্টির দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। এর আগে ৬ জুনও সেখানে আন্দোলন হয়েছিল। শুধু দিল্লিই নয়, পুনে, লখনউ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং জয়পুর-সহ দেশের একাধিক শহরে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করেছে দলটি।
বিক্ষোভের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠিও লিখেছেন অভিজিৎ দীপকে। সেই চিঠিতে তিনি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রিক অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বহু পড়ুয়া মানসিক চাপে ভুগছেন।
অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির জেরে একাধিক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তার দাবিও তুলেছেন। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় স্তরে চলা বিতর্কের মধ্যেই এই বিক্ষোভ নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে যন্তর মন্তরের এই কর্মসূচি যে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।



