পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে একাধিক জনমুখী ঘোষণার পাশাপাশি মদের দোকানের লাইসেন্স নীতিতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় স্থানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশের সময় জানান, জনস্বার্থ এবং সামাজিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স অনুমোদন করা হবে না।
তবে কলকাতা পুরসভার এলাকায় এই দূরত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকার বাস্তব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেখানে ন্যূনতম ৫০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখলেই লাইসেন্সের আবেদন বিবেচনা করা হবে।
রাজ্যের নতুন আবগারি নীতির এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের আশপাশের পরিবেশ আরও সুরক্ষিত ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাখতেই এই পদক্ষেপ।
এবারের বাজেটে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি, এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প, যুবকদের জন্য ভাতা এবং নারীকল্যাণমূলক একাধিক ঘোষণার পাশাপাশি মদের দোকান সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অতীতে এক সময় এই দূরত্বের নিয়ম এক কিলোমিটার ছিল। পরে তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, এক কিলোমিটার দূরত্বের নীতি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে সরকার যে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত বহন করছে। আগামী দিনে নতুন লাইসেন্স প্রদান এবং বিদ্যমান নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-এ মদের দোকানের লাইসেন্স সংক্রান্ত এই নতুন নিয়ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থানের আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



