পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হলেও বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেল ভিন্ন সুর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, এই বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার খুব বেশি সুযোগ থাকবে না। বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলল।
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, বিরোধী দলে থাকা মানেই সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা নয়। তাঁর মতে, বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, যেগুলিকে স্বাগত জানানো উচিত। বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণাকে তিনি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঋতব্রতের বক্তব্য, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী পক্ষের বিধায়কেরা যে একাধিক দাবি তুলেছিলেন, তার কিছু অংশ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই কারণে বাজেটের সবকিছুকে রাজনৈতিক কারণে অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই বলেই মত তাঁর।
তবে বাজেট নিয়ে একাধিক প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হলেও প্রকল্পগুলির জন্য কত অর্থ বরাদ্দ হবে এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ঘোষণার বাস্তব ফলাফল বিচার করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরির সরকারি পরিকল্পনা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, শিল্প ও বিনিয়োগের বিরোধিতা তৃণমূল করছে না, কিন্তু বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হলে এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে সাধারণ মানুষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিল্পায়নের পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষার দিকেও নজর রাখতে হবে।
বাজেটের একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে সরাসরি স্বাগত জানিয়েছেন ঋতব্রত। স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি মদের দোকান না রাখার জন্য পুনরায় ১ কিলোমিটার দূরত্বের নিয়ম চালুর প্রস্তাবকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের বরাদ্দ নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন তৃণমূলের বিধানসভার চিফ হুইপ আখরুজ্জামান। তাঁর অভিযোগ, বাজেটে সংখ্যালঘু দফতরের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।
আখরুজ্জামানের দাবি, সরকার একদিকে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর কথা বললেও বাজেটের বরাদ্দে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ কমে গেলে সেই সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের বাজেটে সংখ্যালঘু দফতরের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল, এবারে তা অনেকটাই কমানো হয়েছে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট নিয়ে বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়ায় যেমন কিছু ঘোষণার প্রশংসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উদ্বেগ। ফলে আগামী কয়েকদিনের বিধানসভা বিতর্কে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েই সরগরম হতে পারে রাজ্য রাজনীতি।



