রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জন্য বড় স্বস্তির বার্তা এল বাজেট থেকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ‘যুবশক্তি ভরসা’ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বেকারদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী Swapan Dasgupta। বাজেট অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকেই এই প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শিক্ষিত বেকারদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য পোর্টাল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই আবেদন প্রক্রিয়া এবং বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যোগ্য শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। গ্র্যাজুয়েট প্রার্থীদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari জানিয়েছেন, এই প্রকল্প সবার জন্য নয়। শুধুমাত্র সেইসব পরিবারের সদস্যরা আবেদন করতে পারবেন, যাঁদের পারিবারিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং যারা অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন না।
এর ফলে কারা এই সুবিধা পাবেন না, সেই বিষয়টিও অনেকটাই স্পষ্ট। যাঁরা ইতিমধ্যে অন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন অথবা নির্ধারিত আয়ের সীমার বাইরে, তাঁরা যুবশক্তি ভরসা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বেকারদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণও আগের প্রকল্পগুলির তুলনায় অনেক বেশি। আগে চালু থাকা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হত। নতুন প্রকল্পে সেই অঙ্ক দ্বিগুণ করে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।
শুধু মাসিক ভাতাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি এবং সরকার-পোষিত কলেজে অধ্যয়নরত পরীক্ষার্থীদের এককালীন ৩০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আগে এই সাহায্যের অঙ্ক ১৫,০০০ টাকা হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
বাজেটে ‘যুবশক্তি ভরসা’ প্রকল্পের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাবে এবং চাকরির প্রস্তুতির সময় তাঁদের সহায়তা করবে।
আবেদন করতে কী কী নথি লাগতে পারে?
সরকারি নির্দেশিকা এখনও প্রকাশ না হলেও প্রাথমিকভাবে যেসব নথি প্রস্তুত রাখতে বলা হচ্ছে, সেগুলি হল—
- আধার কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র
- জন্ম শংসাপত্র অথবা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড
- শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ও মার্কশিট
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি (যদি প্রয়োজন হয়)
সরকারি সূত্রের মতে, আগামী অক্টোবর মাস থেকেই প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত আবেদনপদ্ধতি, যোগ্যতার শর্ত এবং পোর্টাল চালুর দিনক্ষণ খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। ফলে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



