পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে নারী ক্ষমতায়ণকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট বক্তৃতায় মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প ও বরাদ্দের ঘোষণা করেছেন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩ হাজার টাকা
নারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’কে আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। চলতি অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা বাজেটের অন্যতম বড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি।
বিধবা ভাতা বৃদ্ধি, আশাকর্মীদের বড় সুবিধা
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় সিদ্ধান্ত। বিধবা মহিলাদের মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আশাকর্মীদের পারিশ্রমিক ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালিয়ে যেতে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা
মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে এককালীন ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কলেজে ভর্তি হলেই ৫০ হাজার টাকা
উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। অবিবাহিত ছাত্রীরা স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার সময় এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরকারের মতে, উচ্চশিক্ষায় ড্রপআউট কমানো এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই খাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের সরকারি নিয়োগে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ মহিলা স্কোয়াড গঠন করা হবে।
এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা এবং আদিবাসী নেত্রী রানি শিরোমণির নামে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি করে মহিলা পরিচালিত থানা তৈরির ঘোষণাও করা হয়েছে।
ব্যবসা শুরু করতে মিলবে ১০ লক্ষ টাকার সহায়তা
নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে নতুন ব্যবসায়িক নীতির কথাও ঘোষণা করেছে সরকার। ক্লাউড কিচেন শিল্পকে উৎসাহ দিতে বিশেষ নীতি আনা হবে। পাশাপাশি ২ লক্ষ যুবক-যুবতীকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান (গ্রান্ট) হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকি ৫ লক্ষ টাকা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-এ নারী ক্ষমতায়ণকে কেন্দ্র করে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের এক বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।



