সোনা ও রুপো কেনার পরিকল্পনা থাকলে এই মুহূর্তে স্বস্তির খবর। দেশের বাজারে টানা পতনের মুখে মূল্যবান ধাতুর দাম। গত এক সপ্তাহে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে, অন্যদিকে রুপোর দাম কমেছে প্রায় ১০,০০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে চাপ বাড়ার জেরেই এই পতন বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার, ২১ জুন সকালে দেশের বিভিন্ন শহরে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে দাঁড়িয়েছে ১,৪৬,২৩0 টাকা। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩৪,০৫০ টাকা।
এর আগে ১৯ জুন দিল্লির সারাফা বাজারে ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার দাম একদিনেই ২,৮৪০ টাকা কমে ১,৫০,৬০০ টাকায় নেমে এসেছিল। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সোনার বাজারে বড় সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের সূচক এক বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছনোর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর ওপর বিক্রির চাপ বেড়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪,১৪৮.৪৫ ডলার রয়েছে। বিশ্ববাজারের এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারেও।
দেশের প্রধান শহরগুলির মধ্যে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বই ও কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৬,০৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩৩,৯০০ টাকা। চেন্নাইয়ে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৮,৩৭০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৩৬,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম।
পুণে ও বেঙ্গালুরুর বাজারেও মুম্বই ও কলকাতার সমান দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশের প্রায় সব বড় শহরেই সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।
শুধু সোনা নয়, রুপোর বাজারেও বড় পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত সাত দিনে রুপোর দাম প্রায় ১০,০০০ টাকা কমেছে। ২১ জুন সকালে প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম ছিল ২,৫০,০০০ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভারের দাম বর্তমানে প্রতি আউন্সে ৬৪.৭৩ ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে মার্কিন অর্থনীতি, সুদের হার এবং ডলারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে সোনা ও রুপোর ভবিষ্যৎ মূল্য।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা সোনা বা রুপো কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য বাজারের এই সংশোধন কিছুটা স্বস্তির সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে আগামী দিনে দাম আবারও ওঠানামা করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।



