একধাক্কায় ধস সোনায়! ৮ হাজার টাকার বেশি পতন, রুপোতেও বড় ধাক্কা

এক দিনে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পতন সোনায়, রুপোতেও ১৩ হাজার টাকার ধাক্কা—উচ্চ সুদের হার, তেলের দাম ও ‘ফোর্সড সেলিং’-এর জেরে চাপে বাজার

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সপ্তাহের শুরুতেই ধাক্কা খেল সোনা ও রুপোর বাজার। বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত হলুদ ধাতু হঠাৎই বড় পতনের মুখে—এক দিনে হাজার হাজার টাকা কমে যাওয়ায় বাজারে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুধু সোনা নয়, একইসঙ্গে রুপোর দামেও বড়সড় ধস দেখা গিয়েছে।

সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই এমসিএক্স সূচকে ১০ গ্রাম সোনার দাম নেমে আসে ১,৪০,১৫৮ টাকায়, যেখানে আগের সেশনে তা ছিল ১,৪৪,৪৯২ টাকা। অর্থাৎ শুরুতেই প্রায় ৩ শতাংশ পতন। এরপরও পতন থামেনি—একসময় ৫.৫৯ শতাংশ বা ৮,০৮৯ টাকা কমে সোনার দাম পৌঁছে যায় ১,৩৬,৪০৩ টাকায়। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম রয়েছে প্রায় ১,৩৭,৭৬৯ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৬,৭২৩ টাকা বা ৪.৬২ শতাংশ কম।

একই ছবি দেখা গিয়েছে রুপোর বাজারেও। সোমবার বাজার খোলার সময়ই প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায় রুপোর দাম। আগের সেশনে যেখানে এক কেজি রুপোর দাম ছিল ২,২৬,৭৭২ টাকা, তা নেমে আসে ২,১৭,৭০২ টাকায়। এরপর আরও পতন হয়ে প্রায় ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২,১৩,১৬৬ টাকা। বর্তমানে কিছুটা সংশোধনের পর এক কেজি রুপোর দাম রয়েছে ২,১৫,৭৫০ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১১,০২২ টাকা কম।

কেন হঠাৎ এমন ধস?

১) উচ্চ সুদের হার ও বিনিয়োগের ধরণ বদল
বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি, বিশেষ করে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ, আপাতত সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে সরে গিয়ে বেশি রিটার্নের আশায় ডলার বা বন্ডে ঝুঁকছেন। এতে সোনার চাহিদা কমছে।

২) তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ
ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি কড়া নীতি নিচ্ছে—যা সোনার দামের জন্য নেতিবাচক।

৩) ‘ফোর্সড সেলিং’ বা বাধ্যতামূলক বিক্রি
শেয়ার বাজারে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক বড় বিনিয়োগকারী সোনা বিক্রি করছেন। ফলে বাজারে সোনার যোগান বেড়ে গিয়ে দাম দ্রুত কমে যাচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর