ট্রেনে বিনা টিকিটে যাতায়াতের অভ্যাস থাকলে এখনই সাবধান। যাত্রী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং টিকিট ফাঁকি রুখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিনা টিকিটে ধরা পড়লে আগের তুলনায় দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ট্রেনে ধূমপান, মহিলা কামরায় অনধিকার প্রবেশ, অন্যের টিকিটে যাত্রা বা স্টেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
রেলের জারি করা ‘জনবিশ্বাস বিধি ২০২৬’-এর অধীনে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এতদিন বিনা টিকিটে যাত্রার জন্য ন্যূনতম ২৫০ টাকা জরিমানা ধার্য ছিল। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ৫০০ টাকা। ফলে টিকিট ছাড়া যাত্রা করলে এবার আরও বেশি আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হবে যাত্রীদের।
নতুন বিধিতে অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ট্রেন বা স্টেশন চত্বরে অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করলে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একইসঙ্গে অন্যের টিকিট ব্যবহার করে যাত্রা করলে ন্যূনতম ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
রেলের নজরে এসেছে ট্রেন ও স্টেশনে নানা ধরনের অসামাজিক আচরণও। সেই কারণে প্রকাশ্যে থুতু ফেলা, মদ্যপ অবস্থায় যাত্রা করা অথবা অকারণে ঝামেলা সৃষ্টি করলে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ বারবার করলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা জেলের শাস্তিও হতে পারে।
ট্রেনের ভিতরে ধূমপানের ক্ষেত্রেও শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ধূমপান করতে ধরা পড়লে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এছাড়া মহিলা কামরায় অনধিকার প্রবেশ করলে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বিপজ্জনক বা আপত্তিকর সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে। ট্রেনে এমন কোনও বস্তু বহন করলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি অন্যান্য আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
রেল সূত্রের দাবি, যাত্রী নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। ট্রেনে অনিয়ম কমিয়ে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র মে মাসেই সেন্ট্রাল রেলওয়ে জোন বিনা টিকিটে যাত্রার অভিযোগে প্রায় ৪.৯৬ লক্ষ যাত্রীর কাছ থেকে ৪০.৮৫ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
রেল কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন এই কড়াকড়ির ফলে যাত্রীদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে। বৈধ টিকিট কেটে যাত্রা, ট্রেন ও স্টেশন পরিষ্কার রাখা এবং রেল কর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদনও জানানো হয়েছে। যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে রেল।



