দক্ষিণবঙ্গের মানুষের নাজেহাল অবস্থা তীব্র গরম ও আর্দ্রতার জেরে। এর মধ্যেই বড়সড় আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়ার খবর অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলেছে, যদিও ভ্যাপসা গরম থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তির আশা খুব একটা নেই।
হাওয়া অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যের দুই অংশে সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহাওয়ার ছবি দেখা যাবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশের পাশাপাশি বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে দফায় দফায় বজ্রবৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণেই ওই দুই জেলার জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। লাগাতার বৃষ্টির জেরে তিস্তা, তোর্সাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও আগামী কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ জুন পর্যন্ত পাহাড়ের আকাশ মূলত মেঘে ঢাকা থাকবে এবং একাধিক দফায় বৃষ্টির দেখা মিলবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ১৮ ও ১৯ জুন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই বৃষ্টি মূলত স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ফলে সব জায়গায় সমানভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতার মাত্রা খুব বেশি থাকায় গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না। বরং বৃষ্টির পরেও ভ্যাপসা আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গেই বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের ধারে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মৎস্যজীবীদেরও আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে জলপথে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিন রাজ্যের আবহাওয়ার উপর নজর রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



