সোনারপুরে ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের

সোনারপুরের বরেন্দ্রপাড়ায় ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ২৭ বছরের প্রিয়াঙ্কা গায়েনের পচাগলা দেহ। পরিবারের দাবি খুন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে ২৭ বছরের তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, খুনের অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

সোনারপুরে এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ছড়াল ব্যাপক চাঞ্চল্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বরেন্দ্রপাড়া এলাকার একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে ২৭ বছরের এক তরুণীর পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা গায়েন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত খুন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন। গত কয়েক দিন ধরে তাঁকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্য এবং পরিচিতদের সঙ্গেও তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার রাতে ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা সোনারপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভিতর থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কয়েক দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে প্রিয়াঙ্কার। তবে মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

জানা গিয়েছে, একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর বাবা-মা সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকায় নিজেদের বাড়িতে থাকেন। আলাদা ফ্ল্যাট কিনে দীর্ঘদিন ধরেই একা থাকছিলেন তিনি।

মৃতার বাবা শিবুরাম গায়েন জানিয়েছেন, মেয়ে স্বাধীনভাবে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। খবর পাওয়ার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কার মা মিলি গায়েন সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।

পরিবারের আরও দাবি, গত শুক্রবার রাতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সেই তথ্যকে সামনে রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। কে বা কারা ফ্ল্যাটে যাতায়াত করেছিল, শেষবার কবে প্রিয়াঙ্কাকে দেখা গিয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল, সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোনারপুরের এই রহস্যমৃত্যু এখন স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজের বিশ্লেষণের পরই স্পষ্ট হবে, এটি খুন, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু। আপাতত সমস্ত সম্ভাবনাই খোলা রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর