দীর্ঘ পাঁচ মাসের অচলাবস্থার অবসান। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা, খুলে গেল জগদ্দলের অ্যালায়েন্স জুটমিল।
দীর্ঘ পাঁচ মাসের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সঙ্কটের পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন জগদ্দলের অ্যালায়েন্স জুটমিলের শ্রমিকরা। বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে আবার চালু হল মিল। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-এর উদ্যোগে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জট কাটতেই খুলে গেল কারখানার দরজা।
মিল খোলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সকাল থেকে শ্রমিকদের ভিড় দেখা যায় কারখানা চত্বরে। বহু কর্মী ইতিমধ্যেই কাজে যোগ দিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মঙ্গলবার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, বিশেষ শ্রম কমিশনার আশিস সরকার, শ্রম দফতরের আধিকারিকরা এবং মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর মিল চালু করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছন সব পক্ষ।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিস জারি করে অ্যালায়েন্স জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়েন। বহু পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের।
কর্মহীন অবস্থায় অনেক শ্রমিককে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। কেউ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ অস্থায়ী কাজ খুঁজে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন। মিল সংলগ্ন কুলি লাইন এলাকার বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, নির্বাচনের আগেই তাঁরা মিল খোলার দাবিতে একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সময় অর্জুন সিংয়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। পরে শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনার টেবিলে আনেন।
জুট টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতাদের মতে, শ্রমিক পরিবারগুলির উপর দীর্ঘদিনের চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজ ফিরে পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস স্পষ্ট।
বুধবার মিল খোলার পর কারখানা চত্বরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক শ্রমিক একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবার কারখানার সাইরেন বাজতে শুরু করায় নতুন আশার আলো দেখছেন তাঁরা।
পাঁচ মাসের অচলাবস্থার পর অ্যালায়েন্স জুটমিল পুনরায় চালু হওয়া শুধু শ্রমিকদের জন্য নয়, গোটা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন নজর, উৎপাদন কত দ্রুত পূর্ণমাত্রায় ফিরতে পারে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কতটা স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত হয়।



