‘এতদিন নিজেকে সুরক্ষিত করে বাংলার মানুষকে অত্যাচার করেছেন’, মমতা-কে তীব্র আক্রমণ অগ্নিমিত্রার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের পিএসওদের সরিয়ে নতুন অফিসার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক। নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসারদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন অফিসারদের দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরব হলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। নিরাপত্তা ইস্যুতে মমতা-কে তীব্র আক্রমণ করে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার প্রায় দুই দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিএসও-দের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁদের জায়গায় কয়েকজন নতুন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, সেই নিরাপত্তাকর্মীদের গ্রহণ করেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কয়েকজন অচেনা অফিসারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের না চেনার কারণেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

একই দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে পুলিশি নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তাঁর বাসভবনের সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্কও আপাতত ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

'এতদিন নিজেকে সুরক্ষিত করে বাংলার মানুষকে অত্যাচার করেছেন', মমতা-কে তীব্র আক্রমণ অগ্নিমিত্রার

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা বলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা নেবেন নাকি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা গ্রহণ করবেন, তা সম্পূর্ণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তিনি দাবি করেন, বাইরের লোকের তুলনায় পরিবারের কাছ থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বেশি আশঙ্কা থাকার কথা অতীতে বিভিন্ন ঘটনায় উঠে এসেছে।

এখানেই থেমে থাকেননি অগ্নিমিত্রা। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন। বিশাল কনভয়, বাড়ির সামনে পুলিশের ব্যারিকেড, কম তো অত্যাচার করেননি। আপনি এখন দেখাচ্ছেন সুরক্ষা চান না। এসব তো বাংলার মানুষ বিচার করবে। ১৫ বছর নিজেকে সুরক্ষিত করে বাংলার মানুষকে পাহাড়ের ধারে ঠেলে দিয়েছিলেন। ধাক্কা দেওয়াটা শুধু বাকি ছিল।”

এদিকে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি নির্দিষ্ট দুই নিরাপত্তা আধিকারিক—স্বরূপ গোস্বামী এবং কুসুম কুমার দ্বিবেদীকেই নিজের পিএসও হিসেবে রাখতে আগ্রহী। অন্য কাউকে দায়িত্বে দেখতে তিনি ইচ্ছুক নন বলেও সূত্রের দাবি।

তবে প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, সরকারি রোস্টার ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পুলিশ আধিকারিকদের বদলি এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান নেই। ফলে নিরাপত্তা ঘিরে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন