প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তারক্ষী (PSO) বদলকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আধিকারিককে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরিয়ে দেওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মাঝেই এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
বৃহস্পতিবার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পিএসও বদল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ বা বদল প্রশাসনিক বিষয় এবং সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, একসময় সরকার তাঁর নিরাপত্তার জন্যও নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করেছিল, কিন্তু তিনি কখনও ব্যক্তিগতভাবে কাউকে বেছে নেননি। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও ব্যক্তি কীভাবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে বদলি ও নিয়োগের সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও নিয়েছেন। তাই বর্তমানে সরকার যদি প্রশাসনিক কারণে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তা মেনে নেওয়া উচিত বলেই তাঁর মত।
পিএসও বদল নিয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গেও কটাক্ষ শানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিন শুধু নিরাপত্তা বিতর্ক নয়, হকার উচ্ছেদ বিরোধী কর্মসূচি নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, যে কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতা গণতান্ত্রিক উপায়ে মিছিল করতে পারেন। তবে রাস্তাঘাট সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য এবং সেখানে অবৈধ দখলদারি বা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে সমস্যা তৈরি করে।
মন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের মদতেই অনেক ক্ষেত্রে হকার বসানোর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে সরকারের মূল লক্ষ্য জনসাধারণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা।
পিএসও বদল বিতর্ক এবং হকার ইস্যু— দুই ক্ষেত্রেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিয়েছে। একদিকে তৃণমূল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে সরকার প্রশাসনিক নিয়মের কথা তুলে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং কলকাতার হকার ইস্যু ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



