ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ৪১ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, রোনাল্ডো কি এখনও পর্তুগালের সবচেয়ে বড় শক্তি, নাকি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণে তিনি এখন দলের জন্য বাড়তি চাপ?
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল ফুটবলার হলেও এখনও বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা হয়নি রোনাল্ডোর। ২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চে নামার পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। কিন্তু পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনও অপূর্ণ। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে তাঁর কেরিয়ারের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বলেই মনে করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
প্রথম ম্যাচে রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে একই দিনে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক ফুটবল বিশ্বের আলোচনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুলনা, সমালোচনা এবং নানা বিতর্ক।
পর্তুগালের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার আন্তোনিও সিমোয়েসের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। তাঁর দাবি, রোনাল্ডো অনেক সময় দলের সামগ্রিক সাফল্যের চেয়ে নিজের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই মন্তব্য ঘিরে পর্তুগালের ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
তবে রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের হয়ে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যাই প্রমাণ করে তিনি এখনও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং গোল করার ক্ষমতার জন্যই তাঁকে দলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোচ।
অন্যদিকে, একাংশ ফুটবল বিশ্লেষকের মত ভিন্ন। তাঁদের দাবি, বর্তমান পর্তুগাল দলে প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারের অভাব নেই। গতি, ফিটনেস এবং আধুনিক ফুটবলের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তরুণদের উপর বেশি নির্ভর করা প্রয়োজন। সেই কারণেই অনেকের মতে, দলকে নতুন যুগে নিয়ে যেতে হলে রোনাল্ডোর ভূমিকা সীমিত করা উচিত।
পরিসংখ্যানও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় জয়ে রোনাল্ডো দলে ছিলেন না, তবুও পর্তুগাল দাপটের সঙ্গে ম্যাচ জিতেছে। ফলে অনেকের প্রশ্ন, তাঁর অনুপস্থিতিতেও যখন দল সফল, তখন কি নতুন কৌশল ভাবার সময় এসে গিয়েছে?
তবে বাস্তবতা হলো, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগিজ ফুটবলের মুখ রোনাল্ডো। মাঠে নামলেই তিনি এখনও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি এবং সমর্থকদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তাই তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশাও অন্য মাত্রার।
বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্ভবত রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বমঞ্চ। এই টুর্নামেন্টে তিনি যদি পর্তুগালকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেন, তাহলে শুধু সমালোচনার জবাবই দেবেন না, তাঁর বর্ণময় ক্যারিয়ারও পাবে এক ঐতিহাসিক সমাপ্তি। এখন দেখার, শেষ বিশ্বকাপে সিআর৭ কি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে পারেন, নাকি বিতর্কই তাঁর বিদায়ের সঙ্গী হয়।



