টি-২০ বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় মহিলা দল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর এবার নেদারল্যান্ডসকেও একপ্রকার উড়িয়ে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ব্যাট হাতে স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মার বিস্ফোরক ইনিংস, তারপর বিধ্বংসী বোলিং— দুইয়ের মেলবন্ধনে টানা দ্বিতীয় জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এল উইমেন ইন ব্লু।
বুধবার টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মাকে। নেদারল্যান্ডসের বোলারদের উপর কার্যত ঝড় বইয়ে ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তাঁরা। এই জুটির ভিত্তিতেই বড় স্কোরের ভিত তৈরি হয় ভারতের।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রান পাওয়ার পর এদিন আরও আত্মবিশ্বাসী দেখায় স্মৃতিকে। মাত্র ৪৭ বলে ৭৪ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও একটি ছক্কা। সেঞ্চুরির পথে এগোলেও আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি ভারতীয় সহ-অধিনায়ক।
অন্য প্রান্তে সমান তালে রান তোলেন শেফালি বর্মা। ৩৮ বলে ৫৫ রান করে দলের রান তোলার গতি বজায় রাখেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি বাউন্ডারি। মাঝের ওভারে জেমাইমা রদ্রিগেজ ১৩ বলে ১৯ রান যোগ করেন।
শেষদিকে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন রিচা ঘোষ। শিলিগুড়ির এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মাত্র ৮ বলে অপরাজিত ২০ রান করেন। একটি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস ভারতের স্কোরকে আরও শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছে দেয়। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর করেন ১২ রান এবং দীপ্তি শর্মা ২ বলেই ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৯ রান তোলে ভারত। এর সঙ্গে তৈরি হয় নতুন ইতিহাসও। মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম ২০০ রানের গণ্ডি পেরোল ভারতীয় মহিলা দল। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ দলগত স্কোরের তালিকায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য ইনিংস হিসেবেও জায়গা করে নেয়।
২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে বড় কোনও জুটি গড়তে পারেনি তারা। অধিনায়ক বাবেত্তে ডি লিড ২৮ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। ওপেনার হেথার সিগার্স করেন ২১ রান।
মধ্য ও নিম্নক্রমে ফেবে মকেনবোর ১৫ এবং স্টের কালিস ১৮ রান করলেও ম্যাচে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি ডাচ দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ক্রমশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল শ্রী চরণী। তিনি ১৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন। শেফালি বর্মাও বল হাতে চমক দেখিয়ে তিন উইকেট শিকার করেন। নন্দিনী শর্মা দুটি এবং দীপ্তি শর্মা একটি উইকেট নিয়ে নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং লাইনআপকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেন।
টানা দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় শুধু ভারতের নেট রান রেটই বাড়ায়নি, পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করেছে। ব্যাট ও বল— দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপের শুরুর দিকেই নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে তুলে ধরল হরমনপ্রীত কৌরের দল।



