ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে হজমশক্তি উন্নত করা— কালোজামের উপকারিতা নিয়ে অনেক প্রচলিত ধারণা রয়েছে। কিন্তু এই ফল কি সত্যিই সকলের জন্য সমান উপকারী?
বর্ষা ও গরমের সন্ধিক্ষণে বাজারে দেখা মেলে কালোজামের। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল শুধু রসনাতৃপ্তিই করে না, স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ডায়াবিটিস রোগীদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করেন, নিয়মিত জাম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কতটা সত্য? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, কালোজামে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা শরীরে শর্করা বিপাক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। জামে থাকা জাম্বোলিন এবং জাম্বোসিন নামের যৌগ স্টার্চকে দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হতে বাধা দেয়। ফলে রক্তে হঠাৎ সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
এ কারণেই ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য জামকে উপকারী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা থাকে না।
জামে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং বারবার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমায়। ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক হতে পারে।
শুধু ডায়াবিটিস নয়, হজমের সমস্যাতেও কালোজাম উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও সরবরাহ করে।

জামে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা খাদ্যতালিকায় জাম রাখার পরামর্শ দেন।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতেও এই ফল সহায়ক হতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব ভালো জিনিসের মতো জামও সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কারণ জামে থাকা অক্সালেট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
একইভাবে যাঁরা নিয়মিত ডায়াবিটিসের ওষুধ খান অথবা যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জাম খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
গর্ভবতী মহিলারাও পরিমিত পরিমাণে জাম খেতে পারেন। তবে ফলটি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ চাষ বা সংরক্ষণের সময় বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে কালোজাম নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর ফল এবং ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধুমাত্র জাম খেয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



