দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন— তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ দেওয়ার পর কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়? এনডিএ জোটের সম্প্রসারণ এবং শরিক দলগুলির গুরুত্ব বাড়ার আবহে তাঁর নাম ঘিরে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের ‘রাজনৈতিক পুরস্কার’ হিসেবেই মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তৃণমূলের একাংশের সাংসদ সম্প্রতি দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দিয়েছেন। প্রায় ২০ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়া এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি শীঘ্রই এনডিএ শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে অভিজ্ঞ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি শতাব্দী রায়ের নামও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিমন্ত্রী পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। দীর্ঘদিনের সাংসদ হিসেবে সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ— দুইই তাঁর পক্ষে যেতে পারে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
এদিকে এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে সম্মান জানান, অন্যদিকে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন তিনি।
লোকসভা সচিবালয়ে গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রয়োজনীয় নথিতে সই করার পর রচনা বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক সমন্বয় থাকলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক আলোচনা শেষ হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দফার বৈঠকও হবে। আগামী ২০ জুলাই লোকসভার অধিবেশন শুরুর আগেই পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে শতাব্দী রায়ের সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বিদ্রোহী সাংসদদের সক্রিয়তা— এই তিনটি বিষয়ই এখন বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহেই স্পষ্ট হবে, এই রাজনৈতিক পালাবদলের সবচেয়ে বড় লাভবান কারা হতে চলেছেন।



