নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি ফের একবার স্পষ্ট করলেন। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট পেশের আগের দিন বাংলার জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন থাকার কথা জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই অবকাঠামো, রেল ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দের তথ্যও তুলে ধরেছেন তিনি। ফলে রাজ্য বাজেটের আগে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হওয়ার কথা। তার আগে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধি থেকে শুরু করে একাধিক জনমুখী প্রকল্প ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে লেখা প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
শনিবার তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই উপলক্ষে রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি পাঁচ পাতার একটি বার্তা পাঠান। সেখানে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তাঁর দাবি, জল জীবন মিশন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে গতি আনতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আরও ৬০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক বরাদ্দ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের ওপরও জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, শিল্পায়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) আরও শক্তিশালী করা এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করেন, মৎস্যচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বন্দর-কেন্দ্রিক অর্থনীতি, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানকে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় সম্পদ বলেও উল্লেখ করেছেন।
কৃষি ক্ষেত্রের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কৃষকদের উন্নয়ন নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়। পশ্চিমবঙ্গেও সেই একই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে বলে তাঁর ইঙ্গিত।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর সুফল নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় সহায়তা আরও বাড়বে বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এই বার্তায় সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন দেখা গেল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এখন নজর সোমবারের রাজ্য বাজেটের দিকে, যেখানে কেন্দ্রের এই উন্নয়ন বার্তার প্রতিফলন কতটা দেখা যায়, সেটাই দেখার।



