প্রতিদিন ১ কোয়া রসুনেই মিলতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা! জানুন কেন একে বলা হয় ‘সুপারফুড’

প্রতিদিন মাত্র একটি কোয়া রসুন খেলে হৃদযন্ত্র, হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে একাধিক উপকার মিলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রান্নার স্বাদ বাড়ানোর উপকরণ হিসেবে রসুনের পরিচিতি বহু পুরনো। কিন্তু শুধু স্বাদ নয়, স্বাস্থ্য রক্ষাতেও রসুনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদ থেকে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান—দুই ক্ষেত্রেই রসুনকে অন্যতম উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র একটি কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস শরীরের নানা সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে

রসুনে থাকা বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে মনে করা হয়। নিয়মিত পরিমিত রসুন খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমতে পারে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ সকালে কাঁচা রসুন পাতিলেবুর রস বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দেন।

শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়ক

যকৃত শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রসুনে থাকা কিছু যৌগ যকৃতের কার্যকারিতা সমর্থন করতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে।

স্যালাড, স্যুপ বা স্বাস্থ্যকর ড্রেসিংয়ের সঙ্গে কাঁচা রসুন যোগ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

হজমশক্তি উন্নত করতে পারে

রসুন অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পেট ফাঁপা, হজমের গোলমাল এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পরিমিত রসুন খাওয়া হজমের জন্য উপকারী হতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা

রসুন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রসুন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

অনেকে কাঁচা রসুন মধুর সঙ্গে বা টক দইয়ের সঙ্গে খেয়ে থাকেন, যাতে এর ঝাঁঝালো স্বাদ কিছুটা কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক

রসুনে থাকা সালফারযুক্ত উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন কুচিয়ে বা থেঁতো করার পর অন্তত ১০ মিনিট রেখে খাওয়া ভালো। এতে এর উপকারী যৌগ অ্যালিসিন (Allicin) সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীর সহজে সেই উপকারিতা গ্রহণ করতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত রসুন খেলে অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস, অম্বল বা হজমজনিত অস্বস্তি হতে পারে। যাঁদের বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাঁদের খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণ রসুন যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক পরিমাণে এবং নিয়ম মেনে খেলে রসুন শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, সুস্থ জীবনযাপনের সঙ্গীও হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর