সাত দিন রাস্তা বন্ধ কেন? রেড রোডের বিকল্প পথ নিশ্চিতের নির্দেশ হাইকোর্টের

যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোড সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। নাগরিকদের জন্য বিকল্প রাস্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোড সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে ওঠা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল আদালত। নাগরিকদের স্বাভাবিক যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য কলকাতা পুলিশকে বিকল্প রাস্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

২১ জুনের যোগ দিবস কর্মসূচিকে সামনে রেখে ১৪ জুন রাত থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রেড রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে নাগরিক স্বার্থ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত।

শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, অনুষ্ঠানটি ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজন করা হলে কী সমস্যা হতো। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ব্রিগেডে অনুষ্ঠান হলে সাধারণ মানুষের রেড রোড ব্যবহারে বাধা তৈরি হতো না।

রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়েই রেড রোডে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরো রেড রোড নয়, মাত্র প্রায় ৮০০ মিটার অংশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে এবং বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তবে আদালত এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত দেয়। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি নিরাপত্তাজনিত কারণেই অনুষ্ঠান হয়, তাহলে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার সম্ভাবনা কেন বিবেচনা করা হলো না। একইসঙ্গে তিনি জানতে চান, নাগরিকদের অসুবিধা কমানোর জন্য আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের তরফে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন এবং তাঁর SPG নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কারণেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই রেড রোড এলাকায় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

শুনানির শেষে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা এমনভাবে করতে হবে যাতে শহরের সব নাগরিক নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেড রোডে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধার করার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।

আদালত আরও জানিয়েছে, এই মামলায় ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীকেও পক্ষভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে তিন সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেড রোড বন্ধ নিয়ে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নাগরিক স্বার্থ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিল। এখন পরবর্তী শুনানিতে আদালতের সামনে কী যুক্তি তুলে ধরা হয় এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর