প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব থেকে সরানো এবং নতুন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানো হয়নি এবং সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনও জায়গা নেই।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন, এখনও সেই একই নিরাপত্তা পাচ্ছেন। নিরাপত্তার স্তর কিংবা নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা কোনওভাবেই কমানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে নিরাপত্তাকর্মী বদল নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে শুভেন্দুর মন্তব্য, সরকারি ব্যবস্থায় কোনও ব্যক্তি নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তারক্ষী বেছে নিতে পারেন না। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরাও স্থায়ী থাকেন না। প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদেরও বদলি করা হয়। একই নিয়ম রাজ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি নিরাপত্তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। সম্প্রতি জানা যায়, প্রায় দুই দশক ধরে তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (PSO)-কে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবর্তে নতুন নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলে। দলের তরফে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আস্থা ও পরিচয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। হঠাৎ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
ডেরেকের অভিযোগ, সরকারের জবাব
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বদলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, সাংসদ থাকাকালীন সময় থেকেই যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন যাঁদের পাঠানো হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কোনও পরিচয় নেই।
তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরাও প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মী এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র
নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূল এই পদক্ষেপকে ‘অসৌজন্যমূলক’ বলে দাবি করছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার বলছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও রকম কাটছাঁট করা হয়নি এবং সব সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। আগামী দিনে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



