বিশ্বকাপের মাঝপথে ফের ধাক্কা খেল ব্রাজিল শিবির। সমর্থকদের আশায় জল ঢেলে হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকেও ছিটকে গেলেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। কয়েকদিন আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরলেও এখনও পুরোপুরি ম্যাচ ফিট নন তিনি। ফলে শনিবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ব্রাজিলকে।
নেইমারের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন সেলেকাও সমর্থকরা। বুধবার দলের সঙ্গে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে অংশ নেওয়ার পর আশা জেগেছিল, হাইতির বিরুদ্ধে তাঁকে দেখা যেতে পারে মাঠে। কিন্তু সেই সম্ভাবনায় শেষ পর্যন্ত ইতি টানল ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন।
ব্রাজিল শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে এখনও কিছুটা সময় প্রয়োজন নেইমারের। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই তাঁকে হাইতি ম্যাচে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুশীলনে ফিরেও ম্যাচের বাইরে
দলের সঙ্গে অনুশীলনে নামার আগে দীর্ঘদিন আলাদা করে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন নেইমার। মাঠের বাইরে ব্যক্তিগত ট্রেনিং, বল নিয়ে অনুশীলন এবং ফিটনেস ড্রিলের পর অবশেষে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন তিনি।
সেই দৃশ্য দেখে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ফের মাঠে পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক দলের মূল্যায়নে এখনও ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারেননি তিনি।
ফিলাডেলফিয়ায় যাচ্ছেন না নেইমার
হাইতির বিরুদ্ধে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ফিলাডেলফিয়ায়। তবে দলের সঙ্গে সফরে যাচ্ছেন না নেইমার। পরিবর্তে নিউ জার্সিতেই থেকে যাবেন তিনি। সেখানেই হোটেল ও ট্রেনিং সেন্টারে তাঁর পুনর্বাসন এবং ফিটনেস উন্নয়নের কাজ চলবে।
ব্রাজিল ম্যানেজমেন্ট চাইছে, ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির জন্য তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফেরানো হোক। তাই কোনওরকম তাড়াহুড়ো করে ঝুঁকি নিতে রাজি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
চোটের শুরু কোথায়?
প্রায় এক মাস আগে ক্লাব ফুটবলে স্যান্টোসের হয়ে একটি ম্যাচে ডান পায়ের কাফে চোট পান নেইমার। সেই চোটই তাঁকে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সমস্যায় ফেলেছে। যদিও ধীরে ধীরে তিনি ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন, তবুও উচ্চ গতিতে দৌড়, দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং ম্যাচের চাপ সামলানোর মতো শারীরিক প্রস্তুতি এখনও পুরোপুরি হয়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্সেলোত্তির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি এবং তাঁর সাপোর্ট স্টাফের মূল লক্ষ্য নেইমারকে শতভাগ ফিট অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। নকআউট পর্ব কিংবা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।
এই কারণেই হাইতির মতো ম্যাচে ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই— ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা কি সময়মতো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বিশ্বকাপে নিজের ছাপ রাখতে পারবেন?
ব্রাজিল সমর্থকদের আশা, খুব শীঘ্রই মাঠে ফিরবেন নেইমার। তবে আপাতত অপেক্ষা ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা নেই সেলেকাও শিবিরের সামনে।



