বঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বিতর্ক। এ বার হাওড়ার সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে বিধায়কের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গুদামে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার সারেঙ্গা এলাকায় ঘটনাটি সামনে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি গুদাম থেকে তিনটি ম্যাটাডোরে করে ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি, ধুতি এবং অন্যান্য সামগ্রী সরানো হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই গ্রামবাসীদের একাংশ গাড়িগুলি আটকে বিক্ষোভ দেখান।
বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন ছিল, সরকারি ত্রাণসামগ্রী এতদিন সেখানে কেন রাখা হয়েছিল এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের মধ্যে তা বণ্টন করা হয়েছিল কি না। তাঁদের দাবি, এলাকার বহু দরিদ্র মানুষ এই সামগ্রী পাননি, অথচ বিপুল পরিমাণ জিনিসপত্র গুদামে মজুত ছিল।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নথি দেখানো হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এরপর বিধায়কের হিরাপুর এলাকার গ্যারাজ থেকেও ত্রিপল উদ্ধারের খবর সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
স্থানীয়দের একাংশ এবং বিজেপির অভিযোগ, ত্রাণসামগ্রী বাইরে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব এখন প্রশাসনের উপরই নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রিয়া পালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছিল। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, কিছু তৃণমূল নেতা তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। যদিও সেই অভিযোগগুলিও বিধায়ক বরাবরই অস্বীকার করেছেন।
এবারের ঘটনাতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রিয়া পাল। তাঁর দাবি, যেসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, সেগুলি প্রশাসনের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। সেই কারণেই গুদাম থেকে সামগ্রী সরানো হচ্ছিল। এর সঙ্গে কোনও দুর্নীতি বা অনিয়মের সম্পর্ক নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মাঝে এখন সকলের নজর প্রশাসনিক তদন্তের দিকে। কারণ প্রকৃত ঘটনা কী, তা নির্ভর করবে সরকারি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে তার উপর।



