উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে পাহাড়বাসীর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্শিয়াঙের জনসভা থেকে তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র নেপালি ভাষাতেও উপলব্ধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি শুভেন্দু অধিকারীর তৃতীয় উত্তরবঙ্গ সফর। শিলিগুড়ি ও মালদহের পর এবার কার্শিয়াঙে গিয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে সামনে রেখে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য পাহাড়ে আসেননি, বরং পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতেই নিয়মিত সেখানে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “আপনাদের ভাই শুভেন্দু শুধু ঘুরতে নয়, কাজ করতে পাহাড়ে এসেছে।”
এদিনের সভায় তিনি পাহাড়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও উল্লেখ করেন। বিশেষভাবে নাম নেন দীর্ঘদিনের গোর্খা নেতা বিমল গুরুং এবং রোশন গিরির। পাহাড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।
দেশের নিরাপত্তায় পাহাড়ের মানুষের অবদানের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, পাহাড়ের মানুষের আত্মত্যাগ দেশের কাছে চিরস্মরণীয়।
সরকারি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে নেপালি ভাষায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ফর্ম চালুর কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান এবং সিন্ডিকেট রাজ বন্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাহাড়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপিকে সমর্থন করে আসা পাহাড়বাসীর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই কারণেই কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশ্বাস, আগামী দিনে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আরও বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।



