দীর্ঘ সাত বছর ধরে নির্বাচন হয়নি হাওড়া পুরসভায়। প্রশাসকের হাতেই চলছে পুর প্রশাসন। আর সেই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে এবার সরব বিজেপি। নতুন সরকার গঠনের আগেই হাওড়া পুরসভায় দ্রুত নির্বাচন করানোর দাবি তুলে পুর কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। একই সঙ্গে বর্ষার আগে জলজট ও নাগরিক দুর্ভোগ ঠেকাতেও প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল গেরুয়া শিবির।
বুধবার হাওড়া পুরসভায় যান বিজেপির হাওড়া জেলা সদর সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি পুর কমিশনার তথা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত দুটি বিষয় উঠে আসে— দ্রুত পুরভোট এবং বর্ষার আগে শহরের নিকাশি ও নাগরিক পরিষেবার প্রস্তুতি।


গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ২০১৮ সালে তৃণমূল বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নির্বাচন না হওয়ায় পুর পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর কথায়, “মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় নাগরিক সমস্যার সমাধানও হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হতে এখনও কয়েকদিন বাকি। কিন্তু তার আগেই আমরা চাই, হাওড়া পুরসভায় দ্রুত নির্বাচন হোক। পাশাপাশি প্রতি বছরের মতো বর্ষায় যাতে হাওড়া জলমগ্ন না হয়, সেই দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।”
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শহরের বহু এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় বাসিন্দাদের। তাই বর্ষার আগে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে পুর প্রশাসনকে।


এদিন পুরসভায় গিয়ে অস্থায়ী কর্মচারীদের সঙ্গেও কথা বলেন বিজেপি নেতারা। কর্মচারীদের একাংশ তাঁদের বেতন, চাকরির নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক অসংগতি নিয়ে অভিযোগ জানান। বিজেপির দাবি, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কর্মচারী সংগঠনের একাধিক সদস্য এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনকি পুরসভার ভিতরে তৃণমূল কর্মচারী সংগঠনের দখলে থাকা ঘরও বিজেপির নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে হাওড়া পুরসভাকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর, কবে ঘোষণা হয় বহু প্রতীক্ষিত হাওড়া পুরভোটের দিনক্ষণ।







