ভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকা থেকে তিন সন্দেহভাজন দুষ্কৃতীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র আধিকারিকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনায় এখন নজর সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের দিকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আটক তিনজনই স্থানীয় বাসিন্দা। বারাসাত পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকেরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সেই গাড়ির নম্বরপ্লেট শিলিগুড়ির হলেও, তদন্তকারীদের সন্দেহ সেটি ভুয়ো। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজও।
বৃহস্পতিবার সকালেই সিআইডি-র একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তার আগেই রাতের মধ্যে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। যে গাড়িতে চন্দ্রনাথ ছিলেন, সেই স্করপিও থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়ির সামনের দু’টি আসনেই রক্তের দাগ মিলেছে। সেখান থেকে রক্ত, ফাইবার এবং অন্যান্য ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে সিট গঠন করা হয়েছে। যদিও সেই দলে কতজন রয়েছেন বা কোন কোন আধিকারিক দায়িত্বে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট করেনি প্রশাসন। তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারও।
এর আগে বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছে যান রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র হাতে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি তিনি।
বর্তমানে ঘটনাস্থল পুরোপুরি ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। চন্দ্রনাথের আবাসন থেকে যশোর রোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে নিরাপত্তারক্ষীরা। সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে।
এদিকে, চন্দ্রনাথের দেহ বৃহস্পতিবার ভোরে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন সহকারী অধ্যাপক সেই টিমে রয়েছেন। প্রশাসনের মতে, এই ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।



